‘সরকার জিনিসপত্রের দাম একবার বাড়ালে আর কমায় না’

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আজ সোমবার সকালে মাদারীপুর শহরের ইটেরপুল এলাকায়ছবি: অজয় কুণ্ডু

‘জানুয়ারি মাসে যে চাল ৪৩ টাকায় কিনেছি, সে চাল এ মাসে কিনলাম ৫০ টাকা। চাল, তেল থেকে নুন—সব জিনিসের দাম বাড়তেই আছে। সরকার জিনিসপত্রের দাম একবার বাড়ালে আর কমায় না। এভাবে চলতে থাকলে আমাগো বেঁচে থাকা কষ্টসাধ্য হইয়া দাঁড়াইব।’

কথাগুলো মনসুর আলীর (৪৫)। তিনি আজ সোমবার সকালে মাদারীপুর শহরের ইটেরপুল এলাকায় বাজার করতে এসেছিলেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পরিস্থিতিতে সংসার চালানোর কথা জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন।

করোনা পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের আয় কমে গেছে। এর মধ্যে জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতি। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। প্রতিনিয়ত এভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সোমবার সকালে মাদারীপুর জেলার তিনটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখেন প্রতিবেদক। বাজারে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, শাকসবজিসহ সব পণ্যের বাড়তি দাম। দাম বেড়েছে ২ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। পণ্যের দরদামের সময় বিক্রেতার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন কোনো কোনো ক্রেতা।

গত মাসে মিনিকেট চাল ছিল কেজিপ্রতি ৫৮ টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ টাকায়। আটাশ চাল ৪২ থেকে ৪৬ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া খোলা সয়াবিন তেলের কেজি ১৫২ থেকে হয়েছে ১৭৫ টাকা। মসলার মধ্যে জিরার দাম এখন সবচেয়ে বেশি।

শহরের পুরান বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে আসা ক্রেতা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘যতই তেল, চালের দাম সরকার বাড়িয়ে দিক, তেল ছাড়া তো কোনো রান্নাও হয় না। আমরা আগেও যা তেল কিনতাম, এখনো তাই কিনতে হবে। দাম বেশি বাড়ায় আমাগো চিন্তা আর কষ্ট হইবে। অন্য কিছু একটা না কিনে তেল কিনব। কিন্তু এভাবে কি ভালো থাকা যায়! সরকারের আমাগো মতো মানুষের কথা চিন্তা করা উচিত।’

বাজার ঘুরে জানা গেছে, গত মাসে মিনিকেট চাল ছিল কেজিপ্রতি ৫৮ টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ টাকায়। আটাশ চাল ৪২ থেকে ৪৬ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া খোলা সয়াবিন তেলের কেজি ১৫২ থেকে হয়েছে ১৭৫ টাকা। মসলার মধ্যে জিরার দাম এখন সবচেয়ে বেশি। প্রতি কেজি জিরা ২৮০ থেকে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ টাকায়।

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছাড়াও কাঁচা শাকসবজির দামও বাড়তি
ছবি: প্রথম আলো

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছাড়াও কাঁচা শাকসবজির মধ্যে ফুলকপির প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে হয়েছে ৩৫ টাকা। শসা ৪০ থেকে ৫৫, টমেটো ১২ থেকে ১৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫ টাকা।

মাদারীপুর শহরের পুরান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, চাল, তেল, চিনির আমদানি কম, তাই সারা দেশে দাম বাড়তি। তিনি আগে থেকে অনেক বেশি দামে কিনে এনেছেন। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে তা বর্তমান বাজারমূল্যের বেশি না।

জানতে চাইলে জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা বাবুল হোসেন বলেন, নিয়মিত বাজারে অভিযান পরিচালনা করছেন। নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়া হলে মামলা করা হচ্ছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজার দর বেশি থাকায় সব পণ্যের বাড়তি দাম।