সরকারি বিধি মোতাবেক, প্রতিদিন কাজ করে একেকজন সাধারণ শ্রমিক ৪০০ আর দলনেতারা ৪৫০ টাকা করে পাওয়ার কথা। অবশ্য এ টাকা এখনো তাঁরা পাননি।

শ্রমিকদের অভিযোগ, এলাকায় বোরো কাটা–মাড়াই চলে ১৫ দিন। এ সময়ে থাকে শ্রমিকসংকট। এ কারণে একেকজন শ্রমিক ধান কেটে দিনে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত রোজগার করেছেন। কিন্তু ধান কাটা–মাড়াই ও কর্মসংস্থান কর্মসূচির কাজ একই সঙ্গে এবার শুরু হয়। এ কারণে তাঁরা ধান না কেটে কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ৪০ দিনের কাজে যোগ দেন। কিন্তু ২৩ দিন করার পর বলা হচ্ছে, কাজ বন্ধ। এতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে শ্রমিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান।

তারাগঞ্জের মেনানগর গ্রামের শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এবার ধান কাটা–মাড়াই করার ভরা সময়ে রাস্তায় মাটি কাটার (ইজিপিপি) কাজ শুরু হইচে। ধান কাটা–মাড়াই হয় ১০-১৫ দিন। এরপরে আর কাজ থাকে না। সেই জন্যে ধান না কাটিয়া ৪০ দিন মাটি কাটার কাজোত যোগ দিছি। এ্যালা মাটি কাটা বন্ধ। সউগ (সব) প্যাক দিয়া হামার লস করিল।’

প্রামাণিকপাড়া গ্রামের শ্রমিক খয়রন বেগম বলেন, ‘দ্যাশোত গরিব মরার ফাঁন বসাইছে। সরকার জিনিসের দাম বাড়াওচে আর গরিবের কামের দিন কমাওছে। হামরা যামো কোনটে?’

বদরগঞ্জের আমরুলবাড়ি গ্রামের নারী শ্রমিক বেবী বেগম বলেন, ‘৪০ দিন মাটি কাটিয়া ১৬ হাজার টাকা পাওয়ার কথা। সেই জন্যে দোকানোত খরচ করছি বাকিতে। টাকা তুলিয়া দেনো হয়। এ্যালা মাটি কাটা বন্ধ। টাকা দেমো কোনটে থাকি? সরকারের টাকা কি হামার গরিবের গোড়োত আসি ফুরাইল!’

বদরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায় বলেন, ‘কর্মসংস্থান কর্মসূচির কাজ ৪০ দিন করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু ২৩ দিন কাজ করার পর হঠাৎ তা বন্ধ রাখার নির্দেশনা এসেছে। যে ১৩ দিন কাজ হলো না, সে টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে। এখানে আমাদের করার কিছু নেই।’

তারাগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, শ্রমিকেরা ২৩ দিনের কাজের টাকা মুঠোফোনে পাবেন। হয়তো প্রসেস করতে একটু দেরি হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন