default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পায়ে হাঁটার রাস্তার জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় আবেদা বেগম (৬০) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। নিহত আবেদা বেগম উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের কাকরীয়া গ্রামের মৃত আহমেদ আলীর স্ত্রী।

পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবেদা বেগমের বাড়ির ওপর দিয়ে প্রতিবেশী রবি মিয়ার পরিবারের সদস্যরা চলাফেরা করেন। কয়েক দিন আগে দুই ছেলের জন্য বাড়িতে পাশাপাশি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন আবেদা। এ সময় প্রতিবেশী রবি মিয়ার বাড়ির লোকজনের চলাফেরার জন্য তাঁরা তিন হাত রাস্তা রেখে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিনি। যদিও কাগজপত্রে এই রাস্তা নেই। মানবিক দিক বিবেচনা করেই তিনি রাস্তার জায়গা রাখেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

আবেদা বেগমের বাড়ির ওপর দিয়ে প্রতিবেশী রবি মিয়ার পরিবারের সদস্যরা চলাফেরা করেন। কয়েক দিন আগে দুই ছেলের জন্য বাড়িতে পাশাপাশি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন আবেদা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রবি মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া রাস্তার জায়গা কম হয়েছে বলে দাবি করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রবি মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া রাস্তার জায়গা কম হয়েছে বলে দাবি করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আবেদার ছেলেদের সঙ্গে তাঁদের ঝগড়া বাধে। ঝগড়া থামাতে এগিয়ে গেলে মানিক মিয়া দা দিয়ে আবেদার মাথায় আঘাত করেন। এ ঘটনার পরপরই মানিক মিয়ার বাড়ির লোকজন গুরুতর আহতাবস্থায় আবেদাকে শহরের হাসপাতালে ভর্তির কথা বলে তড়িঘড়ি করে গাড়ি ডেকে নিয়ে যান। আবেদার পরিবারের সদস্যরা আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আবেদার কোনো খোঁজ পাননি। অবশেষে সকাল ১০টায় জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবেদার সন্ধান পান তাঁরা। পরে তাঁকে সেখান থেকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন তাঁরা। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবেদাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। দুপুরে ঢাকায় নেওয়ার পথে আবেদার মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

নিহতের ভাই রহমত আলী বলেন, ‘আবেদা বেগমের বাড়ির ওপর দিয়ে পাশের রবি মিয়ার লোকজন আসা-যাওয়া করেন। এসব নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে মানিক মিয়া আমার বোনের মাথায় দা দিয়ে আঘাত করেন।’

এ ঘটনার পর থেকে মানিক মিয়া পলাতক। এ বিষয়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

সরাইলের অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।

মন্তব্য পড়ুন 0