default-image

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরবিরোধী বিক্ষোভে হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল রোববার ডাকা হরতালে সর্বস্তরের মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতা–কর্মীরা। এ সময় হরতাল পালনে কোনো ধরনের বাধা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আবদুল্লাহপুরে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন নেতা-কর্মীরা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করছিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতা–কর্মীরা। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভের একাংশের সঙ্গে পুলিশ, সরকারি দলের ছাত্র-যুব-স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন নিহতসহ আহত হন শতাধিক লোক। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ বিক্ষোভ সমাবেশ পালন ও আগামীকাল সারা দেশে হরতালের ডাক দেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আবদুল্লাহপুরের ‘পলওয়েল কারনেশন শপিং সেন্টারের’ সামনে জড়ো হন বিভিন্ন মসজিদ–মাদ্রাসার খতিব, ছাত্র ও হেফাজতের নেতা–কর্মীরা। পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে অবস্থান নেন শপিং সেন্টারের পাশের একটি সড়কে। এ সময় পুলিশ তাঁদের ব্যারিকেড দিয়ে রাখেন। এর মাঝেই বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন তাঁরা।

বিক্ষোভে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের বৃহত্তর উত্তরা জোনের সভাপতি মাওলানা মো. নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা ইসলাম রক্ষায় মাঠে নেমেছি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছিলাম। কিন্তু আপনারা দেখেছেন (গতকাল) কীভাবে পুলিশ ও সরকারি বাহিনীর লোকজন আমাদের ওপর অত্যাচার করেছে, আমাদের লোকজন হত্যা করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমরা তাঁদের বিচার দাবিতে মাঠে থাকতে চাই।’

নাজমুল হাসান আরও বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলা ও আমাদের ভাই হত্যার প্রতিবাদে আগামীকাল সকাল থেকে আমরা সারা দেশে হরতাল পালন করব। তাই রিকশাচালক থেকে শুরু করে মুদিদোকানি, সবাইকে অনুরোধ করব আপনারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে হরতাল পালন করুন। আমাদের সহযোগিতা করুন।’

প্রচার সম্পাদক জহির ইবনে মুসলীম বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করতে চাই। এর মধ্যে যদি কোনো ধরনের বাধা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। আমরা কঠিন জবাব দেব।’

এদিকে হেফাজতের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কঠোর অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পলওয়েল শপিং সেন্টারের আশপাশে অবস্থান নেন পুলিশ সদস্যরা। এর মধ্যে উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘তারা (হেফাজত) শান্তিপূর্ণভাবেই বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেছে। তারা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা তৈরি করেনি, তাই আমরাও কোনো বাধা দিইনি।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন