default-image

পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (সর্বহারা) পরিচয় দিয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ জেলার অন্তত ১০ জন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার কাছে মুঠোফোনে ৫০ হাজার থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, ‘বেলা ১টা ৫০ মিনিটে আমার মুঠোফোনে অজানা নম্বর থেকে একটি ফোন আসে। সর্বহারা পার্টির প্রধান মেজর জিয়া পরিচয় দিয়ে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, “আমাদের কয়েক কর্মীকে কোর্ট থেকে জামিন করাতে হবে। এ জন্য ৫০ হাজার টাকা দরকার। টাকা না দিলে স্ত্রী-সন্তানদের ক্ষতি হবে।” এরপর বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানাই। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি জিডিও করেছি। আমার মতো কেশবপুর, চৌগাছা ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছেও বিভিন্ন অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এতে আমরা কিছুটা হলেও শঙ্কিত।’

আমার দাপ্তরিক মুঠোফোন নম্বরে দুপুরের দিকে একটি মেসেজ আসে। সেখানে বলা হয়, ‘৫০ লাখ টাকা দে, না দিলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি হবে।’
তমিজুল ইসলাম খান, জেলা প্রশাসক, যশোর
বিজ্ঞাপন

সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীনের মতো করেই চরমপন্থী দলের পরিচয় দিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মাদ রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আহমেদ জিয়াউর রহমান, যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মীর আবু মাউদ, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার ও কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আলমগীরের কাছেও একইভাবে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। কোনো কর্মকর্তাকে ফোন করে, আবার কোনো কর্মকর্তার মুঠোফোন নম্বরে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে চাঁদা চাওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমার দাপ্তরিক মুঠোফোন নম্বরে দুপুরের দিকে একটি মেসেজ আসে। সেখানে বলা হয়, “৫০ লাখ টাকা দে, না দিলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি হবে।” সেখানে বিকাশ নম্বরসহ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কয়েকটি মুঠোফোন নম্বর দেওয়া আছে। সেখানে কয়েকজনের নামও রয়েছে। বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে।’

জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ‘পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি বা সর্বহারা নামে বাংলাদেশে কোনো দলের অস্তিত্ব নেই। অনেক আগেই এসব দল নিঃশেষ হয়ে গেছে। এখন যা আছে, তা হলো সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজ গ্রুপ। বিষয়টা এত সিরিয়াস কোনো ঘটনা না। তারপরও আমরা খতিয়ে দেখছি।’

মন্তব্য পড়ুন 0