default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনায় আরও নয়টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৩ হাজার ৬০ জনকে। গত শনিবার রাত থেকে আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত সদর মডেল থানায় এসব মামলা করা হয়। এ নিয়ে সহিংসতার ঘটনায় মোট ৩২টি মামলা হলো। এতে ২৯ হাজার ১৮০ জনকে আসামি করা হয়।

পুলিশ ও মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহিংসতার ঘটনায় ৩২টি মামলার মধ্যে সদর থানায় ২৭টি, আশুগঞ্জ থানায় ২টি, সরাইল থানায় ২টি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আখাউড়া রেলওয়ে থানায় ১টি মামলা করা হয়। ৩২টির মধ্যে ৬টি মামলায় ১৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। বাকি সবাই ‘অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারী’। কোনো কোনো মামলায় ‘অজ্ঞাতনামা কওমি মাদ্রাসাছাত্র-শিক্ষক ও তাঁদের অনুসারী দুষ্কৃতিকারীদের’ কথা উল্লেখ করা হয়।

সদর থানা সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার রাত থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত সহিংসতার ঘটনায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। ২৬ মার্চ বিকেলে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়। একই দিন কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পুনিয়াউট এলাকায় অবস্থিত আশুগঞ্জ-আখাউড়া পর্যন্ত চার লেন সড়ক প্রকল্পের ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে গাড়ি পোড়ানো হয়। এ ঘটনায় ২০০ থেকে ২৫০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়। ২৬ মার্চ বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পাঁচটার দিকে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একটি মামলা করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।

২৮ মার্চ সকালে সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাংসদ কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়। এদিন দুপুর ১২টার দিকে জেলা শহরের হালদারপাড়া এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার মামলায় অজ্ঞাতনামা শতাধিকের বেশি আসামি করা হয়। এই পাঁচ মামলা গতকাল রাত থেকে আজ বিকেলের মধ্যে নথিভুক্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে শনিবার রাত থেকে গতকাল বিকেলের মধ্যে থানায় আরও চারটি মামলা হয়। ২৬ মার্চ বিকেল সোয়া চারটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত জেলা শহরের কাউতলী এলাকায় অবস্থিত জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় জেলা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বোরহান উদ্দিন বাদী হয়ে গতকাল দুপুরে একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ২৬ মার্চ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের গোপনীয় শাখার গোপনীয় সহকারী আতাউর রহমান বাদী হয়ে গতকাল দুপুরে একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়।

একই দিন একই সময়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়সংলগ্ন ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এই ঘটনায় উপপরিদর্শক আবদুল মোতালেব বাদী হয়ে ৭০০ থেকে ৮০০ হেফাজতের কর্মী, কওমিপন্থী মাদ্রাসাছাত্র ও তাদের অনুসারী দুস্কৃতিকারীদের আসামি করা হয়। এ ছাড়া ২৮ মার্চ হেফাজতের হরতাল পালনের সময় বেলা ১১টা ১৭ মিনিটে জেলা শহরের টিএ রোড এলাকায় অবস্থিত জেলা পরিষদ কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় সহকারী প্রকৌশলী আবদুল হামিদ বাদী হয়ে শনিবার রাতে একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম প্রথম আলোকে বলেন, শনিবার রাত থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত সদর থানায় মোট নয়টি মামলা হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে ‘মাদ্রাসাছাত্রদের ওপর পুলিশের হামলার’ প্রতিবাদে ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে হেফাজতের দাবি, নিহতের সংখ্যা ১৫।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন