বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংসদ শামসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি আচরণবিধির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বেড়ায় আমার নিজের বাড়ি। তাই কয়েক দিন বাড়িতে ছিলাম। এখন বাড়িতে নেই। সংসদে আছি।’

নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর পৌরসভাটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মেয়র পদে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সাংসদ শামসুল হকের পরিবার থেকেই আছেন তিনজন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাংসদের ছেলে ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা এস এম আসিফ শামস, সাংসদের ছোট ভাই বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান মেয়র আবদুল বাতেন এবং সাংসদের ভাতিজি (বড় ভাই বদিউল আলমের মেয়ে) এস এম সাদিয়া আলম।

এ ছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য এইচ এম ফজলুল হক এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ও সোনালী ব্যাংক বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি কে এম আবদুল্লাহ।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাংসদের ভাই আবদুল বাতেন ১৯৯৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত টানা ২২ বছর বেড়া পৌরসভার মেয়র পদে আছেন। দীর্ঘদিন বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদেও দায়িত্ব পালন করেন। ফলে স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগে তাঁর ব্যাপক প্রভাব আছে।

অন্যদিকে ২০০৮ সালে শামসুল হক সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘদিন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরপর তিনবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে ভাইয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে তিনিও রাজনীতিতে বেশ প্রভাব সৃষ্টি করেছেন। রাজনীতির আধিপত্য ধরে রাখতে বর্তমানে ছেলেকে মেয়র পদে নির্বাচিত করতে চাচ্ছেন। এতে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে আবদুল বাতেন সাংসদের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন। তাঁর লোকজনকে ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

পক্ষান্তরে, আবদুল বাতেনের ভাতিজা ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আসিফ শামস চাচার বিরুদ্ধে নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন।

জানতে চাইলে জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা ও বেড়া পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। প্রতিটি বিষয়ের দিকে নজর রাখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সজাগ আছে।’

সাংসদ এলাকা ছাড়ছেন কি না, জানতে চাইলে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সব বিষয়েই আমরা নজর রাখছি। কমিশনকে জানানো হচ্ছে। নির্দেশনা ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন