বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের আওতাধীন সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড নির্মাণ বন্ধের দাবিতে এই সমাবেশ হয়। সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি সমাবেশের আয়োজক।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে। বক্তব্য দেন সংগঠনটির সহকারী কোষাধ্যক্ষ প্রিসিলা মুরমু ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক সুফল হেমব্রম, গাইবান্ধা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর কবির, আইনজীবী পলাশ কান্তি বর্মণ ও বাবুল রবিদাস, মানবাধিকারকর্মী সন্ধ্যা মালো, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেতা গোলাম রব্বানী, মৃণাল কান্তি, সাঁওতাল নেতা শ্যামল মাড্ডি, মানিক সরেন, বাবলু টুডু।

বক্তারা বলেন, সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় সাঁওতালদের পৈতৃক জমিতে ইপিজেড নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ইপিজেড নির্মাণে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটিকে (বেপজা) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে ইপিজেড নির্মাণ করা হলে সাঁওতালদের বাপ-দাদার জমি থাকবে না। তাই এখানে ইপিজেড নির্মাণের পরিকল্পনা বন্ধ করতে হবে। সরকার এখানে ইপিজেড নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো ফসলি জমি নষ্ট করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়। এ ছাড়া কোনো জাতিকে পেছনে ফেলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। কিন্তু কিছু কুচক্রীমহল প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা উপেক্ষা করে তিন ফসলির জমিতে ইপিজেড গড়ার পাঁয়তারা করছে। এই জমি একসময় সাঁওতালদের বাপ-দাদার জমি ছিল। সেখানে আখের চাষাবাদ হতো। চিনিকল যে শর্তে জমি অধিগ্রহণ করেছিল, তা ভঙ্গ হয়েছে। ফলে ওই জমি পৈতৃকসূত্রে সাঁওতাল বাঙালিরা মালিক।

বক্তারা বলেন, জমির জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে তিন সাঁওতালকে জীবন দিতে হয়েছে। বর্তমানে জমিতে তাঁরা ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করছেন। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ার অনেক জায়গা সরকারের পতিত রয়েছে। সেখানেও ইপিজেড হতে পারে। কিন্তু সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে ইপিজেড নির্মাণ যুক্তিযুক্ত নয়।

এসব বিষয়ে রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, চিনিকল ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বেপজার কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা হয়েছে। এখানে ইপিজেড নির্মিত হলে অসংখ্য শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। এখানকার উৎপাদিত পণ্যের ৯০ ভাগ বিদেশে রপ্তানি হবে। দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সেখানে সাঁওতালদেরও কর্মসংস্থান হবে। এ ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ছাড়া এখানে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে। তিনি আরও বলেন, জমি ফেরতের কোনো সুযোগ নেই।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে অবস্থিত রংপুর চিনিকল সূত্র জানায়, সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় রংপুর চিনিকলের আওতায় ১ হাজার ৮৩২ একর জমি আছে। এই জমিতে উৎপাদিত আখ রংপুর চিনিকলে মাড়াই হতো। কিন্তু ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর এসব জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে তিন সাঁওতাল নিহত, পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এরপর থেকে সাঁওতালরা দফায় দফায় এই জমি দখল করেন। জমি উদ্ধারে গঠিত হয় সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি। এই বাস্তবতায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি (বেপজা) সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু স্থানীয় সাঁওতালরা এখানে ইপিজেড না করার জন্য আন্দোলন করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন