সাঁওতাল হত্যার বিচারসহ ৭ দফা দাবিতে গোবিন্দগঞ্জে সমাবেশ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় তিন সাঁওতাল হত্যার বিচারসহ সাত দফা দাবিতে সমাবেশ করেছেন সাঁওতালরা। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর সড়কের কাটামোড় এলাকায় এ সমাবেশ করা হয়। এর আগে উপজেলার মাদারপুর ও জয়পুর গ্রাম থেকে সাঁওতালদের একটি বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশে যোগ দেয়। সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
সংগঠনটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন কমিটির উপদেষ্টা নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন শেখ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক সুফল হেমব্রম, সাঁওতাল হত্যা মামলার বাদী থোমাস হেমব্রম, আদিবাসী নেত্রী অলিভিয়া, প্রিসিলা মুরমু প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। আজও বিচারকাজ শুরু হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে সাঁওতালদের পুনর্বাসনসহ নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফসলি জমিতে ইপিজেড নির্মাণের নামে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বাপ-দাদার সম্পত্তি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে। কিন্তু জমি ছাড়া হবে না বলে সমাবেশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। বক্তারা বিরোধপূর্ণ জমিতে ইপিজেড নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ, তিন সাঁওতাল হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, সাঁওতাল-বাঙালিদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বাপ-দাদার জমি ফেরতসহ সাত দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে অবস্থিত রংপুর চিনিকল সূত্র জানায়, সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় রংপুর চিনিকলের আওতায় ১ হাজার ৮৪২ একর জমি আছে। ওই জমিতে উৎপাদিত আখ রংপুর চিনিকলে মাড়াই হতো। একসময় সাঁওতালরা এসব জমি দখল করে। ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ এসব জমি উচ্ছেদে গেলে সাঁওতালদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ৩ সাঁওতাল নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হন। এর পর থেকে সাঁওতালরা দফায় দফায় ওই জমি দখল করেন। জমি উদ্ধারে সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। এ পরিস্থিতিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি (বেপজা) সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু স্থানীয় সাঁওতালরা সেখানে ইপিজেড না করার জন্য আন্দোলন করছেন।