default-image

দুই গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার জন্য গ্রামের বাসিন্দারা মিলে যশোরের কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে কপোতাক্ষ নদের ওপর সাঁকো নির্মাণ করেছিলেন। এক মাস আগে সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় আবার দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। এখন অস্থায়ী ভিত্তিতে খেয়া নৌকায় নদ পাড়ি দিচ্ছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

নদের এক পাশে কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি ও অন্য পাশে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সারসা গ্রাম। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রায় ১৫ বছর আগে এই দুই গ্রামের বাসিন্দারা মিলে সাঁকোটি নির্মাণ করেন। এরপর থেকে দুই উপজেলার অন্যান্য গ্রামের বাসিন্দারাও এই সাঁকো ব্যবহার করে যাতায়াত করতেন। এক মাস আগে নদের কচুরিপানা ও স্রোতের কারণে পুরোনো সাঁকোটির খুঁটি নড়বড়ে হয়ে যায়। এরপরই সাঁকোটির কয়েকটি অংশ ভেঙে পড়ে।

গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশের সাঁকোটি মাঝবরাবর ভেঙে পড়েছে। তার পাশেই নৌকা দিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের নদ পারাপার করা হচ্ছে। সাগরদাঁড়ি বাজারে কচুমুখি বিক্রির জন্য সারসা থেকে নৌকায় নদ পাড়ি দিতে গিয়ে পা পিছলে পানিতে পড়ে যেতে দেখা যায় রণমল সিংহ নামের এক ব্যক্তিকে। তখন আশপাশের অনেকেই জানান, নদ পাড়ি দিতে গিয়ে এমন দৃশ্য নিত্যদিনের। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকে না।

সারসার বাসিন্দা ও সাগরদাঁড়ি বাজার কমিটির কোষাধ্যক্ষ পল্লি চিকিৎসক বাসুদেব গাইন বলেন, সাঁকোটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেরামত করতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন লেগে যাবে। কিন্তু স্থানীয় ব্যক্তিরা এর স্থায়ী সমাধান চান।

নৌকায় করে নদ পার হওয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, এলাকাবাসীর দানে সাঁকোটি তৈরির সময় কেউ অর্থ, বাঁশ ও স্বেচ্ছাশ্রম দেন। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সারসা, ধানদিয়া, কৃষ্ণনগর, নতুনগাঁও, পাঁচপোতা, সিগনাল, এনায়েতপুর, নগরঘাটা গ্রামের মানুষ জরুরি প্রয়োজনে কেশবপুর উপজেলায় সাগরদাঁড়ি বাজারে আসেন। ওই এলাকার বাসিন্দারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন চিকিৎসাসেবা নিতে। এ ছাড়া ওই এলাকার ছাত্রছাত্রীরা সাগরদাঁড়ির বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়তে যান। কেশবপুরের বাসিন্দারাও সহজ যোগাযোগের জন্য ওই সাঁকো ব্যবহার করে সাতক্ষীরা যেতেন।

বিজ্ঞাপন

সাগরদাঁড়ি বাজার কমিটির সভাপতি সুভাষ দেবনাথ বলেন, বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় দুই উপজেলার বাসিন্দাদের যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু তা সব সময় উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, ‘এই মুহূর্তে কোনো সেতু করার পরিকল্পনা নেই। তবে এলাকাবাসী দাবি জানালে একটা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন