বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
এরপর নদীর তীরে থাকা স্থানীয় লোকজন ভোর সোয়া পাঁচটায় সঞ্জীবকে উদ্ধার করে একটি রাস্তার ওপর নিয়ে শুইয়ে দেন। এ সময় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

সঞ্জীব বলেন, ‘আনুমানিক রাত সোয়া তিনটার দিকে আমি নদীতে ঝাঁপ দিই। ওই সময় আমার সঙ্গে ১৫ হাজার টাকা ও ২টি মুঠোফোন ছিল। নদীতে কিছুক্ষণ সাঁতার কাটার পর আমার মনে হলো আমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছি। পরে আমার পরনে থাকা কাপড় খুলে ফেলি। এরপরও আমি সাঁতার কাটতে পাছিলাম না। পরে আমার শরীরে থাকা গেঞ্জিও খুলে ফেলি। এরপর আমি কোনোরকমে সাঁতার কাটতে থাকি।’

সঞ্জীব জানান, মাঝনদীতে তাঁর পাশ দিয়ে একটি ট্রলার যাচ্ছিল। এ সময় তিনি চিৎকার করে সাহায্য চেয়ে আকুতি করেন। কিন্তু ট্রলারটি তাঁকে সাহায্য না করেই চলে যায়। কিছুক্ষণ পর আরেকটি ট্রলারও একইভাবে তাঁকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। তিনি বলেন, ‘নৌকা যেতে দেখে আবার “বাঁচাও! বাঁচাও!” বলে চিৎকার করি। কিন্তু ওই নৌকার লোকজন আমাকে তীর দেখিয়ে বলে, পাড় খুবই কাছে। তাঁরাও আমাকে আর নৌকায় তোলেননি। এরপর সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে নদীতে ভেসে থাকার চেষ্টা করি। একসময় খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। এরপর কোনোরকমে সাঁতরে তীরের দেখা পাই।’

এরপর নদীর তীরে থাকা স্থানীয় লোকজন ভোর সোয়া পাঁচটায় সঞ্জীবকে উদ্ধার করে একটি রাস্তার ওপর নিয়ে শুইয়ে দেন। এ সময় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয় লোকজন আগুন জ্বালিয়ে তাঁর শরীরে তাপ দিতে শুরু করলে কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে আসে।

সঞ্জীব বলেন, ‘ঢাকা থেকে এই লঞ্চে ওঠার সময়ই মন সায় দিচ্ছিল না। আমি খেয়া পার হয়ে লঞ্চে উঠতে চেয়েছিলাম। কিন্তু খেয়ার লোক আমাকে এই লঞ্চে ওঠার পরামর্শ দেন। ওই লোক বলেছিলেন, “এই লঞ্চ বড় আছে, ভালো লঞ্চ।” তবে সদরঘাট ছাড়ার পর থেকে লঞ্চের শব্দটা আমার কাছে ভালো লাগেনি।’

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এমভি অভিযান-১০ নামের লঞ্চটি প্রায় ৮০০ যাত্রী নিয়ে ঝালকাঠি শহরের কাছাকাছি পৌঁছার পর সুগন্ধা নদীতে থাকা অবস্থায় হঠাৎ আগুন লাগে। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন