default-image

আট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের নিন্দা জানিয়েছেন রাজশাহীর সাংবাদিকেরা। একই সঙ্গে তাঁরা অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। ২০১৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক কাজী জাহিদের করা মামলায় একটি দৈনিক পত্রিকার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মানিক রাইয়ানকে গ্রামের বাড়ি থেকে এরই মধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

এর প্রতিবাদে সোমবার সকালে রাজশাহী নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকেরা। ওই মানববন্ধন থেকে আট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) ওই মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন আরইউজে সভাপতি কাজী শাহেদ। পরিচালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হক। মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘যুগান্তর’-এর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জাতীয় প্রেসক্লাবেরও সভাপতি। আর রাজশাহীর ‘সোনালী সংবাদ’-এর সম্পাদক লিয়াকত আলী রাজশাহীর প্রবীণ ব্যক্তিত্ব। প্রগতিশীল এসব মানুষের বিরুদ্ধে মামলা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। মামলাটির সঠিক তদন্ত হলে সাংবাদিকেরা অব্যাহতি পাবেন।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনকে ‘কালা কানুন’ উল্লেখ করে সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে ‘কালা কানুন’ কেন? এই দেশে ‘কালা আইনে’র দরকার নেই। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকেরা জাতি গঠনে কাজ করে যান। কালা কানুনে যদি তাঁদেরই হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু নেই।

বিজ্ঞাপন

আরইউজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার উপযুক্ত স্থান বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। কিন্তু কাজী জাহিদ মামলা করেছেন থানায়। আর বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহসভাপতি মামুন-অর-রশিদ বলেন, যে শিক্ষক আইসিটি আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনিই আওয়ামী লীগের নেতা মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে অপপ্রচারের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি আইনে গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছেন। এতে বোঝা যায় তিনি নিজেই আইন মানেন না। এ ছাড়া তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে মামলা করেছেন তাতে পুলিশ প্রভাবিত হয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছে।

মানববন্ধনে আরইউজে সভাপতি কাজী শাহেদ বলেন, ‘সরকার বারবার সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেছে আইসিটি আইনে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হবে না। কিন্তু বাস্তবতা এর উল্টো। একজন শিক্ষক আইসিটি আইনে শুধু সম্পাদকদের বিরুদ্ধেই মামলা করেননি, তিনি নিজের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেও মামলা করেছেন। তাঁর মধ্যে যদি শিক্ষকসুলভ আচরণ থাকে, তাহলে তিনি আজই মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেবেন।’

কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহিদী, রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক, নগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক তৌফিক আলী, রাজশাহী সংবাদপত্র কর্মী পরিষদের সভাপতি রেজাউল করিম, বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সহসভাপতি নিলুফার ইয়াসমিন, রাজশাহী বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন রাজশাহীর সহসভাপতি সেলিনা বেগম প্রমুখ।

মন্তব্য পড়ুন 0