বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাংবাদিক মাহমুদুল আলম বলেন, তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে মাইক্রোবাসের পেছনে আটকে ছিলেন। পেছনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। কোনো কারণ ছাড়া রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করে যানজট তৈরির মাধ্যমে এভাবে জনদুর্ভোগ তৈরি হয়। তিনি মোটরসাইকেল থেকে নেমে মাইক্রোবাসের জানালা দিয়ে চালকের আসনে বসা ব্যক্তির (সাদাপোশাকে) এভাবে রাস্তার ওপর গাড়ি দাঁড় করানোর কারণ জানতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যক্তি কোনো কথা না বলে গাড়ি থেকে নেমে মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেন। এ নিয়ে বিতণ্ডা তৈরি হলে তিনি কোমর থেকে ওয়াটকি বের করেন।

মাহমুদুল আলম বলেন, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য এ সময় জেলা পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে ফোন দেন তিনি। ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের একপর্যায়ে সেই ফোন কেড়ে নিয়ে এসআই নিজেই জেলা পুলিশের ওই কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি কিছুটা নমনীয় হয়ে মোটরসাইকেলের চাবি দিয়ে গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ ঘটনার পর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। এরপর পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিক ওই এসআইয়ের গাড়ি জব্দ ছাড়াও তদন্ত কমিটি করে পুলিশের এসআইকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। গাড়ি জব্দ করার পর ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহারের বিষয়টি ফাঁস হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসআই গোলাম রসুল মাস দুয়েক আগে বগুড়া সদর থানায় যোগদান করেন। তিনি শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। চলাফেরা করতেন একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে। তিনি নিজেই এটি চালাতেন।

বিআরটিএ বগুড়ার পরিদর্শক এসএম সবুজ প্রথম আলোকে বলেন, গাড়িটির নম্বর (ঢাকা-মেট্রো-চ-৭১-৩২৭৩)। বৈধ নম্বর হলে বিআরটিএর অনলাইনে গাড়ির নিবন্ধনের সব তথ্য থাকার কথা। কিন্তু অনলাইন সার্ভারে এ নম্বরের কোনো মাইক্রোবাসের তথ্য নেই।

গাড়িটি দরদাম করে একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কিনেছি। তবে কাগজপত্র এখনো আমার নামে হয়নি। কাগজপত্রে জটিলতা আছে কি না, সেটা জানি না।
অভিযুক্ত এসআই গোলাম রসুল

বগুড়ার ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম বলেন, জব্দ করা গাড়ির কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে গাড়ির ধরন অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে নিবন্ধিত। কিন্তু আইন লঙ্ঘন করে তা মাইক্রোবাস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গাড়িটির ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ প্রায় দেড় বছর আগে উত্তীর্ণ হয়েছে। রাজধানীর কাজীপাড়া এলাকার বাংলাদেশ বেকারির নামে গাড়িটি নিবন্ধিত।

অভিযোগের বিষয়ে এসআই গোলাম রসুল বলেন, বাসা থেকে সাদাপোশাকে মাইক্রোবাস চালিয়ে সদর থানার দিকে যাওয়ার পথে চকযাদু সড়কে যানজটে আটকা পড়েন। পেছনে থাকা মোটরসাইকেলচালক নেমে এসে বিতণ্ডায় জড়ান। তিনি প্রেসক্লাবের সভাপতি তা জানতেন না। রাগের মাথায় তাঁর মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নিয়েছিলেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে ফোন দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নালিশ করতে থাকলে তিনি সেই ফোন নিয়ে কথা বলেছেন। পরিচয় জানার পর মোটরসাইকেলের চাবি ফেরত দিয়ে চলে এসেছেন। না চেনার কারণে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তাঁর সঙ্গে বিতণ্ডা হয়েছে।

ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গাড়িটি দরদাম করে একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কিনেছি। তবে কাগজপত্র এখনো আমার নামে হয়নি। কাগজপত্রে জটিলতা আছে কি না, সেটা জানি না।’

এদিকে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বগুড়া প্রেসক্লাব ও বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিইউজে) পৃথক বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে পুলিশ পরিচয়ে বগুড়া প্রেসক্লাব সভাপতির সঙ্গে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন