default-image

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সাংবাদিক কামাল হোসেনকে (৩০) গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদ আলী শাহ ও দীন ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মিয়ার আদালতে হাজির হয়ে আসামিরা জামিন চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সালেহ আহমদ দুই আসামির জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জেলার তাহিরপুর উপজেলার জাদুকাটা নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে গেলে কামাল হোসেন নির্যাতনের শিকার হন। তাঁকে ধরে মারধরের পর একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তাঁর মোটরসাইকেল, মুঠোফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। কামাল হোসেন দৈনিক সংবাদ ও সিলেট থেকে প্রকাশিত দৈনিক শুভ প্রতিদিনের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি।

নির্যাতনের ঘটনার পরদিন কামাল হোসেন বাদী হয়ে উপজেলার ঘাগটিয়া গ্রামের মাহমুদ আলী শাহ (৩৮), রইস উদ্দিন (৪০), দীন ইসলাম (৩৫), মুশাহিদ তালুকদার (৪৫) ও মনির উদ্দিনের (৫২) নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি রইস উদ্দিন ছাড়াও ঘাগটিয়া গ্রামের ফয়সল আহমদ (১৯), আনহারুল ইসলাম (২০), তাহের হোসেন (২০) ও মাসরিবুল ইসলামকে (২৬) গ্রেপ্তার করে। তাঁরা বর্তমানে জামিনে আছেন।

কামাল হোসেনের পরিবার ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাদুকাটা নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সংবাদের তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ওই এলাকায় যান কামাল হোসেন। সেখানে ঘাগটিয়া গ্রামের মাহমুদ আলী শাহসহ কয়েকজন তাঁকে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে ওই ব্যক্তিরা তাঁকে নিয়ে যান পার্শ্ববর্তী চকবাজারে। সেখানে একটি গাছের সঙ্গে তাঁকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে কামাল হোসেনের পরিবারের লোকজন এলাকার বাদাঘাট ফাঁড়ি থেকে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। কামাল হোসেনকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন