default-image

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমান বাদল গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের (২৫) মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদমুখর গোটা জেলার সাংবাদিক সমাজ। আজ রোববার সকাল থেকে জেলা শহর ছাড়াও সাংবাদিক বুরহানের জন্মস্থান কোম্পানীগঞ্জ ও চাটখিল উপজেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ক্ষুব্ধ সাংবাদিকেরা।

আজ দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের ব্যানারে প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিক মাওলা সুজনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বখতিয়ার শিকদার, আলমগীর ইউসুফ, আবু নাছের মঞ্জু, জামাল হোসেন, সুমন ভৌমিক, মোতাচ্ছিম বিল্লাহ, আকাশ মো. জসিম প্রমুখ। এ সময় কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন উন্নয়ন সংগঠক আবদুল আউয়াল, নোয়াখালী বারের সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি গুলজার আহমেদ জুয়েল।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাই আবদুল কাদের মির্জার তথাকথিত ‘সত্যবচনে’ অশান্ত হয়ে ওঠা কোম্পানীগঞ্জে বিবদমান দুই পক্ষের অপরাজনীতির নির্মম বলি হয়েছেন তরুণ সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির। ওই ঘটনার সঙ্গে যে বা যাঁরাই জড়িত থাকুক না কেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সাংবাদিক বুরহানের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বুরহানের জন্মস্থান কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শহীদ মিনার চত্বর এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা। একইভাবে জেলার চাটখিল উপজেলার সাংবাদিকেরাও বুরহান হত্যার প্রতিবাদে আজ সকালে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।

অন্যদিকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী প্রথম আলোকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিক বুরহান হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে কাদের মির্জার অব্যাহত মিথ্যাচারের প্রতিবাদে গত শুক্রবার বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল। মিছিলটি বিকেল পাঁচটায় বাজারসংলগ্ন তাঁর বাড়ি থেকে বের হয়ে চাপরাশিরহাট মধ্যম বাজারে গেলে কাদের মির্জার অনুসারীরা মিছিলে হামলা চালান। এ সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ দুই পক্ষকে দুই দিকে ধাওয়া করে এবং ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর কাদের মির্জার নেতৃত্বে তাঁর শতাধিক অনুসারী মোটরসাইকেল ও গাড়িযোগে চাপরাশিরহাট এলাকায় যান। একপর্যায়ে কাদের মির্জার সমর্থকেরা বাজারসংলগ্ন মিজানুর রহমানের বাড়িতে হামলা ও গুলি চালান। এ সময় কর্তব্য পালনকালে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে তাঁর মুখের নিচের অংশ এবং গলা ঝাঁজরা হয়ে যায়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন কমপক্ষে ছয়জন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন বুরহানসহ আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে সন্ধ্যায় নেওয়া হয় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে। এরপর রাতেই বুরহানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। গতকাল রাত পৌনে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিক বুরহানের মৃত্যু হয়। তিনি দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার-এর নোয়াখালী প্রতিনিধি ছিলেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আজ দুপুর পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। পরিবারের অভিযোগের আলোকে এ বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া কাদের গুলিতে বুরহান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, সেটি বের করতে পুলিশ ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন