default-image

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির নিহত হওয়ার ঘটনায় হওয়া মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মোসলেহ উদ্দিন মিজান ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।

ওই মামলার যে ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তাঁরা হলেন ইউছুফ নবী ওরফে বাহাদুর, মো. আলমগীর হোসেন, মো. রাহাত, আবদুল আমিন, আজিজুল হক ওরফে মানিক, মোশারফ হোসেন, সুজায়েত উল্যাহ, বিক্রম চন্দ্র ভৌমিক, ফয়সল আলম ওরফে টিটু, দেলোয়ার হোসেন, মো. মাসুদুর রহমান, মো. সেলিম।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসব আসামি অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে ছিল। আমরা তাঁদের সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন হত্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর জন্য নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৪ নম্বর আমলি আদালতে আবেদন করি। আজ দুপুরে এ বিষয়ে শুনানি শেষে বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মোসলেহ উদ্দিন মিজান আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেন। এখন এসব আসামিকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

এর আগে ৭ মার্চ এ মামলায় বসুরহাট থেকে যুবলীগের কর্মী বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বেলালের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি। এ নিয়ে এ মামলায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

আজ সাংবাদিক বুরহান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ১২ আসামিসহ মোট ২৭ জনকে ৯ মার্চ রাতে কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট-পেশকারহাট সড়ক থেকে আটক করেছিল কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ। পরে তাঁদের একই দিন (৯ মার্চ) বিকেলে ও রাতে বসুরহাটে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই ২৭ আসামি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী। মিজানুর রহমান নিজেও বর্তমানে বসুরহাট পৌরসভা ভবনে হামলা-ভাঙচুর ও গুলির ঘটনায় কাদের মির্জার অনুসারী ও পৌরসভার কর্মচারী নুর নবীর করা মামলাসহ পাঁচটি মামলায় কারাগারে।

গ্রেপ্তার হওয়ার আগে মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছিলেন, ৯ মার্চ বসুরহাটে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াতের ওপর হামলার প্রতিবাদ সভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সময়মতো গাড়ি না পাওয়ার কারণে ফিরতে দেরি হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁদের বসুরহাট-পেশকারহাট সড়ক থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলি চলাকালে দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার নোয়াখালী প্রতিনিধি বুরহান উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন। ২০ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে কাদের মির্জার অব্যাহত ‘মিথ্যাচারের’ প্রতিবাদে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। মিছিলটি বিকেল পাঁচটায় বাজারসংলগ্ন তাঁর বাড়ি থেকে বের হয়ে চাপরাশিরহাট মধ্যম বাজারে গেলে কাদের মির্জার অনুসারীরা হামলা চালান।

এ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলি চলাকালে দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার নোয়াখালী প্রতিনিধি বুরহান উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন। ২০ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিক বুরহানের বাবা নুরুল হুদা বাদী হয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলা করার পরদিনই পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন