বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রথম আলোর খ্যাতিমান সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নানা প্রকল্পসহ এই মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু দুর্নীতি নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। করোনা মহামারির সময়ও এই মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কারও কারও নানা দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করেছেন। অন্য মন্ত্রণালয়ের সচিব থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নানা দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়েও তিনি আলোচিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। ইতিপূর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর সঙ্গে রোজিনাকে হেনস্তা করার যোগসূত্র রয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

রোজিনা ইসলামকে মুক্তি দিয়ে তাঁকে হেনস্তা করার ঘটনায় জড়িত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিচার বিভাগীয় কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তির দাবি জানিয়েছে রাবি শিক্ষক সমিতি।
default-image

শিক্ষক সমিতির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা মনে করি, বর্তমান সরকার নানা খাতে অবিস্মরণীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে, যার জন্য দেশে-বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছে। এতে অন্য অনেকের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তারও অবদান রয়েছে। কিন্তু আমরা এটাও লক্ষ করেছি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে এক শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশে নজিরবিহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার ঘটনাও ঘটেছে। গত বছর থেকে করোনা মহামারি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এমন ঘটনা বেশি ঘটেছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনসূত্রে জানা গেছে। বিশ্বজুড়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য সংগ্রহের জন্য যে পন্থা অবলম্বন করা হয়, সাংবাদিক রোজিনা ইসলামও সেটা করেছেন বলে সচেতন মহলের মতো আমরাও মনে করি।’

বিবৃতিতে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার জন্য করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে এবং দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তাতেও সরকার দেশে-বিদেশে ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছে। একটি দেশের কার্যকর উন্নয়নের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করার বিকল্প নেই। আর এ ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যম সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করবে, অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরবে, এটাই স্বাভাবিক। গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারলে সরকার এসব সমস্যা কাটিয়ে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে।

শিক্ষক সমিতির নেতারা বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি,  কিছু কর্মকর্তার দুর্নীতি, অপেশাদারি ও কর্তৃত্ববাদী মনোভাব গড়ে উঠেছে, যা সুশাসন ও উন্নয়নকে ব্যাহত করছে। এসব ঘটনা সরকারকে জনবিচ্ছিন্ন করা ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা কি না, তা নিয়ে শিক্ষক সমিতি সন্দেহ পোষণ করছে। অতি দ্রুত রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করা হোক, তাঁকে সসম্মানে মুক্তি দেওয়া হোক। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যেসব কর্মকর্তা বা যাঁরাই রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন এবং যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিচার বিভাগীয় কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন