বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নির্দেশনার বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে কথা হয় কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশ্রাফুল আলমের সঙ্গে। সাংসদকে এলাকা ত্যাগের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘নির্দেশনার বিষয়টি সাংসদকে জানানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে। আমি যতটুকু জানি, তিনি এলাকা ছেড়ে গেছেন।’

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজিতপুর ও নিকলী নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৫। এই আসনে আফজাল হোসেন নৌকা প্রতীকে টানা তিনবারের সাংসদ। তাঁর বাড়ি বাজিতপুরে। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। দ্বিতীয় ধাপে বাজিতপুরের ১১টি ইউপিতে নির্বাচন হয়। তাঁর প্রতিজ্ঞা ছিল ১১টিতেই এবার নৌকার জয় নিশ্চিত করবেন। কারণ, আগের বছর সব কটিতে নৌকা জয় পায়নি। সে কারণে প্রতিটি ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে তাঁর শুধু প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না, একই সঙ্গে নানা কৌশলে প্রচারণায়ও অংশ নিতেন। প্রত্যক্ষ ভূমিকার কারণে সাংসদের শ্যালক, ভাগনেসহ তিনজন বিনা ভোটে জয় পান। নির্বাচনের তিন দিন আগে তিনজন বিদ্রোহী ভোট থেকে সরে আসেন। তিনটির মধ্যে একটিতে তাঁর মামাতো ভাই ও আরেক আরেক শ্যালক নৌকার প্রার্থী ছিলেন। ফলে, সব কটিতে ভোট হয় নিরুত্তাপ।

তৃতীয় ধাপে ঘোষিত এলাকার মধ্যে সাংসদের আরেক নির্বাচনী এলাকা নিকলী রয়েছে। সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে নিকলী। নৌকার প্রার্থী মনোনয়নে সাংসদের ভূমিকা ছিল মুখ্য। তবে বেশির ভাগ ইউনিয়নে নৌকার বিদ্রোহী রয়েছে। ফলে, মনোনয়নের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সাংসদ দলীয় প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি একে একে ইউনিয়নগুলোয় গিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। সর্বশেষ গতকাল কারপাশা ইউপি চত্বরে দলীয় প্রার্থী তাকি আমান খানের নির্বাচনী সভা ছিল। ওই সভায় সাংসদ উপস্থিত হন এবং প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান। একই সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মীদের এই বলে হুঁশিয়ার করেন, নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা প্রয়োগ করা হবে।

একপর্যায়ে একজন গণমাধ্যমকর্মী ভিডিও ক্যামেরা হাতে নিয়ে এগিয়ে গেলে সাংসদ তাঁকে ধমক দিয়ে সরিয়ে দেন। সভায় সাংসদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ এম রুহুল কুদ্দুস ভুঁইয়াসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা।

কারপাশা ইউপির সভা শেষ করে রাতেই আফজাল হোসেন যান দামপাড়া ইউনিয়নে। সেখানে গিয়ে হাইস্কুল মাঠে দলীয় প্রার্থীর সভায় যোগ দেন এবং ভোট চান। আজ জোরেশোরে প্রস্তুতি চলছে সিংপুর ইউপিতে। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সভা হবে। ওই সভায় সাংসদ আফজালের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। মাইকে এ তথ্য প্রচার করা না হলেও দলীয় নেতা-কর্মীরা এক সপ্তাহ আগ থেকে ছোট ছোট সভার মাধ্যমে এ তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছেন।

একপর্যায়ে নিকলীর ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে সাংসদের উপস্থিতি ও প্রকাশ্যে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়ার তথ্যটি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিতে আসে। শেষে গতকাল সাংসদকে নিকলী ছাড়ার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন।

কারপাশা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী। তিনি এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি বলেন, ‘ভোটের মাঠে সাংসদের উপস্থিতি ভোটের ভারসাম্য নষ্ট করছে। তাঁর উপস্থিতি নৌকার প্রার্থীর লাভ হলেও আমরা যাঁরা স্বতন্ত্র পরিচয়ে নির্বাচন করছি, তাঁদের বড় ক্ষতি হচ্ছে। এককথায়, সাংসদের উপস্থিতিতে সুষ্ঠু ভোট আশা করা যায় না।’

চশমা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা একই ইউপির আরেক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী দিলদার আহমেদ খান বলেন, সাংসদ যত দ্রুত এলাকা ছাড়বেন, তত দ্রুত সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ ফিরে আসবে।

চেষ্টা করেও সাংসদ আফজালের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তিনি ফোন ধরছিলেন না। তবে কারপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল বারী বলেন, সাংসদ সভায় এসেছিলেন সত্য, তবে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে খুব বেশি কথা বলেননি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, কমিশনের নির্দেশনার বিষয়ে তাঁরা সচেতন ও শ্রদ্ধাশীল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন