বিজ্ঞাপন

সাংসদের করা ইউনিয়ন কমিটিগুলো বিলুপ্ত করার কথা জানিয়ে একই দিন জেলা আওয়ামী লীগের কাছে পৃথক চিঠি ইস্যু করা হয়। সাংসদের কাছে লেখা চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে।

কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া নিয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসন। এ আসনে নূর মোহাম্মদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে সাংসদ হন। দলে তাঁর পদ নেই। তবু সংসদীয় এলাকার দুই উপজেলার সব পর্যায়ের কমিটি গঠনে তিনি বেশ তৎপর। নূর মোহাম্মদের বাড়ি কটিয়াদীতে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই প্রায় দুই যুগ। দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছে আহ্বায়ক কমিটি। আর আহ্বায়ক পদটি আগলে রেখেছিলেন এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ। কিন্তু তাঁর হাত ধরে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা পায়নি। বরং আওয়ামী লীগ একাধিক ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। কোন্দলের কারণে অর্ধশতাধিকবার সংঘর্ষ হয়। লাঞ্ছিত হন দলের অসংখ্য নেতা। দুবার সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়েও করা যায়নি। শেষে তিনি ব্যর্থতার দায় জেলা নেতাদের ঘাড়ে চাপিয়ে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর পদ থেকে সরে যান।

আগের চিঠির ভাষা ছিল বেশ কড়া। সেটি আমরা গ্রহণ করতে পারিনি। বিশেষ করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ আফজলের নেতিবাচক ভূমিকার কারণে আমাদের অবস্থানটা মুখোমুখি হয়ে গিয়েছিল।
মোতায়েম হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক, পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ

ওবায়দুল্লাহর পদত্যাগের পর দলের নেতৃত্ব চলে আসে যুগ্ম আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেনের হাতে। তিনি সাংসদের অনুগত হিসেবে পরিচিত। আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল সাংসদের প্রতিপক্ষ হয়ে এলাকায় রাজনীতি করেন। সম্প্রতি সাংসদের গঠিত সব কমিটির সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মোতায়েম। আহ্বায়কের পদত্যাগের পর সাংগঠনিক শূন্যতার মধ্যে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটির নজরে আসে। গত ২১ জুন কেন্দ্র পাকুন্দিয়ায় সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা পাঠায়। কাজ না হওয়ায় কেন্দ্রীয় নির্দেশনার সূত্র ধরে চিঠি পাঠায় জেলা আওয়ামী লীগ। এরপরও থেমে যাননি সাংসদ। পাকুন্দিয়ার নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে পাটুয়া ভাঙ্গা, হোসেনদি, বুরুদিয়া, এগারসিন্ধুর, জাঙ্গালিয়া, সুফিয়া ও চণ্ডীপাশা ইউনিয়ন কমিটি গঠন করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে গতকাল সাংসদ নূর মোহাম্মদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। তবে মোতায়েম হোসেন চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানান। তাঁর কাছে আগের নির্দেশনা উপেক্ষা করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগের চিঠির ভাষা ছিল বেশ কড়া। সেটি আমরা গ্রহণ করতে পারিনি। বিশেষ করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ আফজলের নেতিবাচক ভূমিকার কারণে আমাদের অবস্থানটা মুখোমুখি হয়ে গিয়েছিল।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন