default-image

নড়াইলের কালিয়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র ফকির মুশফিকুর রহমান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই ঘোষণা দেন।

তৃতীয় ধাপে আগামীকাল শনিবার কালিয়া পৌরসভার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে ফকির মুশফিকুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চামচ প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। তিনি কালিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক। ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ায় এর আগে ফকির মুশফিকুর রহমানকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বর্তমান মেয়র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের স্বার্থে এবং আমার পিতৃতুল্য চাচা সাংসদ বি এম কবিরুল হকের নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। এ জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমার বিশ্বাস, আমি নির্বাচন করলে পৌরবাসী বিপুল ভোটে জয়ী করতেন। আমি সারা জীবন আপনাদের পাশে সেবক হিসেবে থাকব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের স্বার্থে এবং আমার পিতৃতুল্য চাচা সাংসদ বি এম কবিরুল হকের নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। আমার বিশ্বাস, আমি নির্বাচন করলে পৌরবাসী বিপুল ভোটে জয়ী করতেন। আমি সারা জীবন আপনাদের পাশে সেবক হিসেবে থাকব।
ফকির মুশফিকুর রহমান, কালিয়া পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র

সংবাদ সম্মেলন নড়াইল-১ (কালিয়া-সদরের একাংশ) আসনের সাংসদ বি এম কবিরুল হক (মুক্তি বিশ্বাস) উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি এ পৌরসভার মেয়র ছিলাম। এরপর আমার স্বজনেরা ছিলেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখে এবং তাঁর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার খাতিরে মুশফিকুর রহমানকে সরে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছি। এখন নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

এ সময়ে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কালিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র বি এম ইমদাদুল হক ও একরামুল হক, কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মোল্লা এমদাদুল হক, কালিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম শেখ, নড়াগাতি থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ফোরকান মোল্লা, কালিয়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম, নড়াগাতি থানা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. হাদিউজ্জামান প্রমুখ।

default-image

কালিয়া পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বি এম এমদাদুল হক মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এখন ভোটের মাঠে থাকলেন দুজন। একজন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী (নৌকা প্রতীক) মো. ওয়াহিদুজ্জামান এবং অপরজন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী (ধানের শীষ) এস এম ওয়াহিদুজ্জামান (মিলু)। মো. ওয়াহিদুজ্জামান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং এস এম ওয়াহিদুজ্জামান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি পদে রয়েছেন।

নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে গত সোমবার কালিয়া আওয়ামী লীগের শীর্ষ সাত নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করে জেলা আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে সাংসদের স্ত্রী চন্দনা হকও রয়েছেন। তিনি কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক। নৌকার নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগে চন্দনা হককে হুকুমের আসামি করে গতকাল বৃহস্পতিবার ৬৫ জনের নামে থানায় মামলা করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। আসামিরা সবাই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থক।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন