default-image

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইসরাফিল আলম (৫৫) আর নেই। আজ সোমবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সকালে তাঁর বড় মেয়ে ইসরাত সুলতানা প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সাংসদ ইসরাফিল আলম দীর্ঘদিন ধরে যক্ষ্মা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। সম্প্রতি তাঁর শরীরে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শনাক্ত হয়। চিকিৎসার কিছুদিন পর দ্বিতীয় দফা নমুনা পরীক্ষায় তাঁকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়।

ইসরাফিল আলম দুই মেয়ে, এক ছেলে, স্ত্রীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি নওগাঁ-৬ আসন থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রথম সাংসদ নির্বাচিত হন। পরে দশম সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হন। ইসরাফিল আলম ১৯৬৬ সালের ১৩ মার্চ নওগাঁর রানীনগর উপজেলার ঝিনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

আজ দুপুরের পর সাংসদের মরদেহ নওগাঁয় গ্রামের বাড়িতে আনা হবে এবং এখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

ইসরাফিল আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসরাফিল আলম আজীবন দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। ইসরাফিল আলমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৬ জুলাই শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে ইসরাফিল আলম রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তি হওয়ার পর উপসর্গ থাকায় নমুনা পরীক্ষায় তাঁর শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ১২ জুলাই তিনি হাসপাতাল থেকে নওগাঁয় গ্রামের বাড়িতে আসেন। ১৫ জুলাই দ্বিতীয় দফা নমুনা পরীক্ষায় তাঁর করোনা নেগেটিভ আসে। আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৭ জুলাই তাঁকে স্কয়ার হাসপাতালে দ্বিতীয় দফায় ভর্তি করানো হয়। গত শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চিকিৎসকেরা লাইফ সাপোর্টে রাখেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0