বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গ্রাহকেরা বলছেন, তাঁরা সরল মনে ঋণের আশায় এই টাকা দিয়েছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা সংগ্রহ করেছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। তাঁরা অফিসের সাইনবোর্ড আর সাজানো-গোছানো অফিস দেখে টাকা দেন। গ্রাহকেরা ৫ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত টাকা দিয়েছেন। এখন টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় প্রতিদিন তালাবদ্ধ অফিসের সামনে গিয়ে ভিড় করছেন তাঁরা।

বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, শৈলকুপা শহরের কবিরপুর এলাকার সিটি কলেজ সড়কে একটি একতলা বাড়ির মূল ফটকের সামনে সাইনবোর্ড। তবে ফটকটি তালাবদ্ধ। সাইনবোর্ডটিতে লেখা আছে, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সিরাক বাংলাদেশ, ক্ষুদ্র ঋণদান ও কুটির শিল্প প্রকল্প’। অফিসের সামনে অনেক মানুষের ভিড় দেখা গেছে। তাঁরা ঋণ পাওয়ার আশায় টাকা দিয়ে এখন ঘুরছেন বলে জানান।

কথা হয় দিগনগর গ্রামের রুহুল আমিনের সঙ্গে। তিনি জানান, স্ত্রী লাভলী খাতুনের নামে বই খুলে ২ লাখ টাকা ঋণ নিতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তিনি ২০ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর বাড়ি গিয়ে টাকা নিয়ে যান সংস্থাটির কর্মকর্তা নাজমুল হাসান।

সাতগাছি গ্রামের ফিরোজ হোসেন জানান, স্ত্রী সীমা খাতুনের নামে বই করে জমা দিয়েছেন ৫ হাজার টাকা। তিনি ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিতে চেয়েছিলেন।
নাদপাড়া গ্রামের বজলুর রহমান জানান, তিনি স্ত্রী চকেলা খাতুনের নামে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিতে ৫ হাজার জমা দিয়েছেন। ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর টাকা নেওয়া হয়েছে। সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন ২ লাখ টাকা ঋণের আশায়। তিনি বিকাশের মাধ্যমে এই টাকা দিয়েছেন।

সিরাক বাংলাদেশের অফিসের পাশের বাড়ির বাসিন্দা মহি উদ্দিন জানান, সংস্থাটি যে বাড়ি ভাড়া নিয়ে অফিস করেছিল, সেই বাড়ির মালিক আকবার আলী থাকেন গ্রিসে। তাঁর স্ত্রী সীমা খাতুন ঝিনাইদহে বসবাস করেন। সীমা খাতুনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে বাসাটি ভাড়া নিতে চান সিরাক বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। তাঁরা বাসা দেখার কথা বলে সেখানে কিছু চেয়ার-টেবিল নিয়ে আসেন এবং পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে অগ্রিম দিয়ে চুক্তিপত্র তৈরি করবেন বলে জানান। এরই মধ্যেই হুট করে বাড়ির ফটকে সংস্থার সাইনবোর্ড ঝোলান।

মহি উদ্দিন আরও জানান, ১ অক্টোবর থেকে বাসা ভাড়া নেওয়া হবে না বলে তাঁর কাছে চাবি রেখে চলে যান সংস্থার কর্মকর্তারা। পরে তিনি তালা খুলে দেখেন, ভেতরে কয়েকটি চেয়ার-টেবিল। তিনি জানান, নিজেও মেয়ে মিতা খাতুনের নামে বই খুলে ১৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর।

স্থানীয় সাইফুল ইসলাম জানান, সংস্থাটির কর্মকর্তারা খুব বেশি পরিচিতি পাননি। মাত্র পাঁচ দিন এখানে থাকলেও বেশির ভাগ সময় তাঁরা অফিসের মধ্যেই থেকেছেন। বাইরে অর্থ সংগ্রহের জন্য বেরিয়েছেন। তবে সংস্থার প্রধান বলে পরিচয় দেন নামজুল হোসেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন দলে দলে গ্রাহক আসছেন। তাঁরা ক্ষোভের কথা বলছেন। এখন পর্যন্ত যতটুকু জানা গেছে, কর্মকর্তারা সহস্রাধিক মানুষের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এখন তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোনগুলো বন্ধ।

বাড়ির মালিকের স্ত্রী সীমা খাতুন জানান, তাঁরা ফোনে কথা বলেছেন মাত্র। এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। তিনি অসুস্থ ছিলেন। এই সময়ে চাবি নিয়ে খুলে সেখানে চেয়ার-টেবিল উঠিয়েছেন, এটা তিনি জানতেন না।

এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শেখ আবদুল লতিফ জানান, সিরাক নামে কোনো সংস্থা তাঁদের দপ্তরের নিবন্ধিত নয়। শৈলকুপা শহরে অফিস করেছে, এটাও তাঁদের জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

বিষয়টি নিয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে আলাপ করলে তিনি জানান, কেউ এমন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

এ বিষয়ে সিরাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত জানিয়েছেন, তাঁদের সংস্থার ঝিনাইদহের শৈলকুপা এলাকায় কোনো শাখা নেই, কখনো ছিল না। এ ছাড়া তাঁরা ঋণদান কর্মসূচি বাস্তবায়নও করেন না। কিন্তু তাঁদের সংস্থার নাম ব্যবহার করে একটি চক্র প্রতারণা করছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে তিনিও অবহিত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, প্রতারক চক্র এমআরএ নিবন্ধন সনদ নম্বর ব্যবহার করেছে সাইনবোর্ডে, যা তাঁদের নয়। তাঁদের সংস্থা এমআরএ নিবন্ধিত নয়। তিনি দাবি করেন, একটি প্রতারক চক্র তাঁদের সংস্থার নাম ও খণ্ডিত লোগো ব্যবহার করে এ প্রতারণা করেছেন। এ নিয়ে তাঁরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করবেন বলে জানান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন