সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডি

এবার সাক্ষীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ

বিজ্ঞাপন
default-image

সাবেক প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন নাটোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিস সহায়ক লিটন আলী। এ কারণে তিনি বিবাদীপক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত হুমকি পাচ্ছেন ও হেনস্তা হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এবার জিডির সাক্ষী ওমর আলীর বাড়িতেও হামলা ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ওমর আলী এ ব্যাপারে গতকাল রোববার রাতে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তবে পুলিশ আজ সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

জিডির সাক্ষী হওয়ার কারণে আমার বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। জিডির ব্যাপারে পুলিশ পদক্ষেপ নিলে তাঁরা আমার বাড়িতে হামলা করার সাহস পেত না।
ওমর আলী, তেবাড়িয়া ইউপি সদস্য ও লিটন আলীর জিডির সাক্ষী

লিটন আলী জানান, ২০১২ সালে আহাদ আলী সরকার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ঢাকা জেলা ক্রীড়া অফিসের অফিস সহায়ক হিসেবে যোগদান করেন। তবে তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর বাড়িতে কেয়ারটেকারের কাজ করানো হতো। ছয় মাস পর তিনি আপত্তি জানালে আক্রোশবশত তাঁকে রাজশাহী অফিসে সংযুক্ত করে পাঠানো হয়। পরে কয়েক দফায় পাবনা ও নারায়ণগঞ্জে বদলি করা হয়। আহাদ আলী সরকারের মন্ত্রিত্ব চলে যাওয়ার পর নাটোরে বদলি হয়ে আসেন লিটন। তবু তাঁকে সাবেক প্রতিমন্ত্রীর নাটোরের বাড়িতে ডেকে নিয়ে নানা কাজ করতে বলা হতো।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
লিটন মিথ্যা বলেছে। তাকে আমি বা আমার ছেলেরা কেউ হত্যার হুমকি দিইনি। আমার প্রতিপক্ষদের ইন্ধনে সে মিথ্যা অভিযোগে জিডি করেছে। ওই জিডির আক্রোশে ওমরের বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ অসত্য। সেখানে আমার ছেলে ছিল না। ওমরই আমার কর্মী আল আমিনকে মারপিট করে তার দায় এড়ানোর জন্য বাড়িতে নাটক সাজিয়েছে।
আহাদ আলী সরকার, সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

লিটন অভিযোগ করেন, ২৪ মে রাতে আহাদ আলী সরকারের বড় ছেলে সোহেল সরকার তাঁকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাঁদের হুকুমমতো চলতে বলেন। তিনি রাজি না হলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে ৮ জুলাই তিনি আহাদ আলী সরকার, তাঁর ছেলে সোহেল সরকার, ভাই শাহাদত সরকারসহ চারজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় জিডি করেন। জিডিতে সাক্ষী করা হয় সদরের তেবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ওমর আলীকে। গতকাল রোববার দুপুরে আহাদ আলী সরকারের ছেলের নেতৃত্বে একদল লোক ওমর আলীর বাড়িতে হামলা করে ও লুটপাট চালান। এ ব্যাপারে তিনি রোববার রাতে সোহেল সরকারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তবে পুলিশ সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইউপি সদস্য ওমর আলী বলেন, ‘জিডির সাক্ষী হওয়ার কারণে আমার বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। জিডির ব্যাপারে পুলিশ পদক্ষেপ নিলে তাঁরা আমার বাড়িতে হামলা করার সাহস পেত না।’

আহাদ আলী সরকার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘লিটন মিথ্যা বলেছে। তাকে আমি বা আমার ছেলেরা কেউ হত্যার হুমকি দিইনি। আমার প্রতিপক্ষদের ইন্ধনে সে মিথ্যা অভিযোগে জিডি করেছে। ওই জিডির আক্রোশে ওমরের বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ অসত্য। সেখানে আমার ছেলে ছিল না। ওমরই আমার কর্মী আল আমিনকে মারপিট করে তার দায় এড়ানোর জন্য বাড়িতে নাটক সাজিয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লিটনের করা জিডি তদন্তের জন্য আদালতের অনুমতি চেয়ে দরখাস্ত দেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে আদালত বন্ধ থাকায় অনুমতি এখনো পাওয়া যায়নি। অনুমতি পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউপি সদস্য ওমর আলীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটারও তদন্ত চলছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন