বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভোলার দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই দিন ট্রলারডুবির ৯ ঘণ্টা পর হাফেজ খন্দকার নামের এক জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তাঁর বাড়ি চরফ্যাশন উপজেলার আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের উত্তর শিবা গ্রামে। বাকি ২০ জেলে নিখোঁজ ছিল। ডুবে যাওয়ার ৬ দিন পর আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ওই ট্রলারের নিখোঁজ জেলে মো. শাহিন তাঁর বাবা মো. সেকান্দার আলীকে ফোন করে জীবিত রয়েছেন জানান। মুঠোফোনে শাহিন বলেন, ট্রলারডুবির পরে ১৮ ঘণ্টা ধরে তাঁরা সাগরে ভাসেন। ভাসতে ভাসতে তাঁরা পটুয়াখালী জেলার মহিপুরের দিকে চলে যান। এ সময় তাঁদের বাঁশখালীর একটি মাছ ধরার ট্রলার উদ্ধার করে। তাঁরা এখনো ওই ট্রলারে আছেন। ওই ট্রলারের জেলেরাই সেবাযত্ন করে তাঁদের সুস্থ করে তুলেছেন।

শাহিনের সঙ্গে বেঁচে ফেরা অন্য দুই জেলে হলেন চরফ্যাশন আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল খালেক (৫০) এবং দক্ষিণ আইচা থানার চরমানিকা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হারুন (৪৫)। এই নিয়ে ডুবে যাওয়া ট্রলারের মোট চারজন জেলে উদ্ধার হলেন।

ডুবে যাওয়ার ৬ দিন পর আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ওই ট্রলারের নিখোঁজ জেলে মো. শাহিন তাঁর বাবা মো. সেকান্দার আলীকে ফোন করে জীবিত রয়েছেন জানান।

চট্টগ্রাম বাঁশখালীর মাছ ধরা ট্রলার এফবি সাকিবের প্রধান মাঝি মো. গিয়াসউদ্দিন মুঠোফোনে উদ্ধার জেলেদের পরিবারকে বলেন, দুর্ঘটনার পরের দিন বিকেল চারটার দিকে তাঁরা তিন জেলেকে বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার করেছেন। মাছ ধরা শেষে ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরে এলে তাঁরা এলাকায় ফিরে আসবেন। স্বজনদের দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করেন তিনি।

ওই ট্রলারডুবির ঘটনায় উদ্ধার প্রথম জেলে মো. হাফেজ খন্দকার (৩৯) ৮ ডিসেম্বর বাদী হয়ে দক্ষিণ আইচা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। মামলায় ধাক্কা দেওয়া এফভি এসআরএল-৫ ট্রলিং জাহাজের কর্তৃপক্ষের কাছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। সঙ্গে নিখোঁজ জেলেদের জীবনাশঙ্কা করা হয়। মামলার তথ্যমতে, চরফ্যাশন উপজেলার নীলকমলের মো. বাচ্চু মাঝি (৫৫), দক্ষিণ আইচার মো. আল আমিন (৩৪), দ্বীন ইসলাম (৪৫), আবুল বাশার (৪০), উত্তর শিবার মো. ফারুক হাওলাদার (৫০), আবদুল্লাহপুরের মো. জাভেদ (৩০), মো. ইউসুফ (৪০), মো. জসিম উদ্দিন জমাদার (৪০), মো. রফিকুল ইসলাম (৪০), মো. মাকসুদ (৪৫), মো. বাচ্চু (৩৭), মো. নুর ইসলাম (৪৮), মো. নুরে আলম (৪৫), মো. সুমন (৩৫), মো. আলী (৪০), মো. নাগর (৪৫), রসুলপুরের মো. মিজানুর রহমান (২০)—এই ১৭ জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

ডুবে যাওয়া ট্রলারের মালিক মো. কামাল খন্দকার, নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সদস্য ও আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইলিয়াছ মাস্টার অভিযোগ করেন, ৬ দিন ধরে ১৭ জেলে নিখোঁজ। নিখোঁজ জেলেদের খুঁজতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ভূমিকা নেওয়া হয়নি। নিখোঁজ জেলেদের খুঁজতে গ্রামবাসী চার লাখ টাকা চাঁদা তুলে দুটি মাছ ধরার ট্রলারে করে জেলেদের সাগরে পাঠিয়েছেন। তাঁরা কোনো খবর না পেয়ে ফিরে এসেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী বলেন, নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের অভিযোগ সত্য নয়। কোস্টগার্ড তাঁদের উদ্ধার করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন