বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলেরা বলছেন, প্রথম দিন দস্যুদলটি যে ট্রলার নিয়ে হামলা চালায়, সেটির নিচের অংশ (ডেকের অংশ) ছিল কমলা রঙের। ভারতীয় জেলেরা ট্রলারের ডেক ও যে অংশ পানিতে থাকে সেই অংশে কমলা ও লাল রং ব্যবহার করেন।

গত রোববার পাথরঘাটায় পুলিশ-কোস্টগার্ডের এক মতবিনিময় সভায় জেলে ও মৎস্যজীবী সমিতির নেতারা নিরাপত্তাহীনতার কথা জানান। তাঁরা বলেন, নতুন এই জলদস্যু বাহিনী সম্পর্কে তাঁরা কিছুই আঁচ করতে পারছেন না। অপহৃত সাতজনের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের পর তাঁদের কমলা রং করা ট্রলারে করে পটুয়াখালীর মহীপুরে নামিয়ে দেয় দস্যুরা। সেখানে স্থানীয় জেলেরা ওই সাত জেলেকে দস্যুদলের সদস্য ভেবে মারধর করেন। পরে ভুল ভাঙলে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত এক জেলেকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জেলেরা বলেন, বছর তিনেক আগেও সুন্দরবনে ৩৫-৪০টি জলদস্যু বাহিনী সক্রিয় ছিল। কিন্তু এই বাহিনী নৃশংসতায় ব্যতিক্রম। এরা কথায় কথায় জেলেদের গুলি ও বেধড়ক মারধর করে। মাছ, জাল ও জ্বালানি লুটপাটের পর প্রতি ট্রলার থেকে একজন করে জেলেকে মুক্তিপণের জন্য তুলে নিয়ে যাচ্ছে। মুঠোফোনে অপহৃত জেলেদের পরিবারকে নির্যাতনের চিৎকার স্বজনদের শোনাচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘সাগরে আমাদের জলসীমা বেড়েছে, অথচ আমাদের জেলেরা নিজেদের জলসীমায় গেলে ভিনদেশি জেলেরা মাছ ও জাল লুট ও মারধর করেন।’ ভারতীয় জেলেরা আমাদের পূর্ব-পশ্চিম সুন্দরবন ও সোনারচর এলাকায় এসে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সভায় বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) তোফায়েল হোসেন সরকার, কোস্টগার্ডের পাথরঘাটা কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আলমগীর হোসেন, পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ সরকার বলেন, ‘জেলেদের নিরাপত্তার জন্য যা যা করণীয়, সেসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেব।’

পাথরঘাটার এফবি মনোয়ারা নামের অপহৃত একটি ট্রলারের জেলে জামাল হোসেনের ভগ্নিপতি ফিরোজ জানান, অপহরণের পর দস্যুরা দিনে তিন–চারবার মারধর করে মুঠোফোনে তাঁদের স্বজনদের শোনাত। খাবার দিত না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলেদের সূত্র জানায়, ২০১২ সালে সুন্দরবনের জলদস্যু দমনের জন্য সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা ২০১৬ সালের ৩১ মে থেকে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযান চালান। এ সময় ৩২৮ জন জলদস্যু র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে। জমা দেয় ৪৭০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাড়ে ২২ হাজার গুলি। এরপর ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেন।

কোস্টগার্ডের পাথরঘাটা স্টেশনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট ফাহিম শাহরিয়ার বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, গুলিবিদ্ধ ওই জেলে মারা যাওয়ায় ডাকাতির ঘটনা সামনে এসেছে। মুক্তিপণ দিয়ে অপহৃত জেলেদের যে মুক্ত করা হলো, এ খবর আমাদের জানানো হয়নি। জানালে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারতাম। তবে গভীর সাগরে অভিযান চালানোর মতো আমাদের নৌযান নেই। গভীর সাগরে কোস্টগার্ডের ভিন্ন দল ও নৌবাহিনী কাজ করে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন