default-image

সাগর মোহনার ইউনিয়ন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কুকরিমুকরি। ইউনিয়নের একটি মাছের ঘেরে গত দুই দিনে (শুক্র ও শনিবার) নয়টি ইলিশ ধরা পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব ইলিশের আকারও বেশ বড়। ঘেরের পানিতে ইলিশ পাওয়ার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ভিড় জমান স্থানীয় ব্যক্তিরা। গবেষকেরা বলছেন, এ ঘটনার মাধ্যমে ইলিশসম্পর্কিত গবেষণার নতুন দ্বার উন্মোচন হতে পারে।

কুকরিমুকরি ইউনিয়নের চারপাশে মেঘনা নদী। পানি উন্নয়ন বোর্ড ইউনিয়নের চারপাশে ২০১৪ সালে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে। মাটি কাটার পর বাঁধের বাইরে স্থানীয় ব্যক্তিরা এসব গর্তে মাছের ঘের তৈরি করে মাছের চাষ করে আসছেন।

ভোলা মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম আজহারুল ইসলাম বলেন, কুকুরিমুকরি মাছের ঘেরে নয়টি ইলিশ পাওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। জোয়ার-জলোচ্ছ্বাসে পানির সঙ্গে এ ইলিশ আসতে পারে। এখন কয়টি ইলিশ ঘেরে প্রবেশ করল, কয়টি বেঁচে রইল—এগুলো কারও জানা নেই। ওই ঘেরে কি লবণপানি ছিল, না মিঠাপানি ছিল—এটাও খোঁজ নিতে হবে। অতীতে এ ধরনের কোনো গবেষণা নেই। ভবিষ্যতে গবেষণার দ্বার উন্মোচন হলো।

কুকরিমুকরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবুল হোসেন মহাজন বলেন, কুকরিমুকরি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আমিনপুর এলাকায় জেলেরা মাছের ঘেরে মাছ ধরার সময় জাল টানলে রুই, কাতলা, পাঙাশ, তেলাপিয়ার সঙ্গে নয়টি ইলিশ পান। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার পাঁচটি এবং আজ শনিবার চারটি ইলিশ পাওয়া গেছে। ইলিশগুলোর ওজন ৮০০-৯০০ গ্রাম। জালে ইলিশ ধরা পড়ার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যক্তিরা ভিড় জমায় এবং ছবি তোলে।

বিজ্ঞাপন

কুকরিমুকরি এলাকার পরিবার উন্নয়ন সংস্থার স্থানীয় ব্যবস্থাপক মো. আনিচ হাওলাদার বলেন, ঘেরের চারপাশে উঁচু বাঁধ দেওয়া আছে। তারপরও গত বছর ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় ও পরে জলোচ্ছ্বাসে কয়েকবার ঘের প্লাবিত হয়। তখন ঘেরে ইলিশ প্রবেশ করতে পারে। আনিচ হাওলাদার আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। পুকুরের জ্যান্ত ইলিশ হাতে নিয়ে ছবি তুলি। প্রথমবারের মতো আমি ঘেরে ইলিশ দেখেছি।’

চাঁদপুরের ইলিশ গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান আনিসুর রহমান বলেন, ইলিশ গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক তিনবার পুকুরে ইলিশ চাষ নিয়ে গবেষণা হয়েছে। দেখা গেছে, ৫০০ গ্রামের বেশি বড় হয় না। আর যা খুবই ব্যয়বহুল। পুকুরে চাষের কারণে একপর্যায়ে এসব ইলিশ প্রজনন ক্ষমতা হারায়। কিন্তু কুকরিমুকরির ঘটনা নতুনভাবে গবেষণার দ্বার উন্মোচন করল। হয়তো মেঘনার মধ্যে জেগে ওঠা চরাঞ্চলে ঘের তৈরি করে ইলিশ উপযোগী পরিবেশ, পানি, খাবার দেওয়া হয়, তাহলে হয়তো ইলিশ আবাদ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কুকরিমুকরির ওই ঘেরে কালচার ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন