default-image

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন এক রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত শনিবার তদন্ত কমিটি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ওই রোগীর পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৩ সেপ্টেম্বর জ্বর ও শরীরব্যথা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী ও শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয় ওই কিশোরী (১৬)। ধীরে ধীরে সে অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠে। ১১ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে হাসপাতালে শয্যায় মা ঘুমিয়ে গেলেও কিশোরীটি জেগে ছিল। এ সময় এক যুবক (৩০) ওই মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালের একটি কক্ষে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে পালিয়ে যান ওই যুবক। এদিকে তরুণীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে ওই রাতেই তাকে জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বিজ্ঞাপন

শনিবার এ ঘটনা তদন্ত করতে কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গোলাম সাদিককে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে।
কিশোরীর বাড়ি উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নে। কিশোরীর দিনমজুর বাবা জানান, হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। ওই ক্যামেরার ফুটেজ দেখলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, লজ্জায় বিষয়টি গোপন রেখেছেন তাঁরা।
জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) এরফান আলী বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর এক কিশোরীকে শারীরিক সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিন দিন পর পরিবার শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, স্থানীয় একটি সূত্রে এ ঘটনার বিষয়ে জানার পর তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান মিঞা বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনা সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি। তবে ওই কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কেউ কিছু জানাননি, অভিযোগও করেননি। এরপরও বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, তিনি করোনা পজিটিভ হওয়ায় বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। তবে কিশোরীটির পরিবার অভিযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এরপরও থানায় অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ আইনি পদক্ষেপ নেবে।’

মন্তব্য পড়ুন 0