default-image

সুস্বাদু গোবিন্দভোগ ও গোপালভোগ আম পাড়ার মধ্য দিয়ে শনিবার থেকে সাতক্ষীরায় শুরু হলো আম বাজারজাতকরণ। এবার ফলন হয়েছে ভালো আর আমের আকারও বড়। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত আমবাগানমালিকেরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশা করছেন।

সাতক্ষীরা জেলার সাতটি উপজেলায় এবার বাগানজুড়ে আম আর আম। প্রশাসনের নির্দেশনামতো ১ মে থেকে গোবিন্দভোগ ও গোপালভোগ আম গাছ থেকে পাড়া শুরু হয়েছে। ফলনের পাশাপাশি মূল্য কম নয়। প্রতি মণ আম বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। মূল্য আরও বাড়বে বলে ধারণা আমচাষিদের।

সাতক্ষীরার ধূলিহর এলাকার আমচাষি আবদুল্লাহ বলেন, তিনি ১০ বিঘা জমিতে আম চাষ করছেন। গত বছর আমের ফলন ও মূল্য কম থাকায় লাভ করতে পারেননি। এবার ফলন ও মূল্য বেশি। তবে প্রায় সাত মাস ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় আমের স্বাদ কিছুটা কম ও আকার কিছুটা ছোট হয়েছে। তারপরও সব মিলিয়ে আমের উৎপাদন ভালো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শ্যামনগর উপজেলার হায়বাদপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আম্পানের ক্ষতিপূরণ তাঁরা পাননি। তবে এ মৌসুমের শুরু থেকেই আমের মূল্য ভালো। তিনি আশা করছেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার আমচাষিরা লাভের মুখ দেখতে পারেন। তিনি আরও জানান, সারা দেশে সাতক্ষীরার গোবিন্দভোগ ও গোলাপভোগ আমের কদর রয়েছে। খেতে খুবই সুস্বাদু, আকার ও রংও ভালো। এ আমের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অন্য যেকোনো আমের চেয়ে ১৫-২০ দিন আগে পাকে।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ নুরুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সরকারি বরাদ্দ পাননি আমচাষিরা। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা পাঠানো হলেও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তবে আমচাষিদের প্রশিক্ষণ, পরিচর্যাসহ অন্যান্য দিকনির্দেশনা দেওয়ার কথা জানালেন তিনি। সাতক্ষীরায় চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে, ৫ হাজার ২৯৯টি আমবাগানে ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ৫০০ মেট্রিক টন রপ্তানি করার কথা রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন