default-image

করোনার টিকা সাতক্ষীরায় পৌঁছেছে। আজ রোববার সকাল পৌনে নয়টার দিকে টিকা বহনকারী পিকআপ ভ্যান সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পৌঁছায়। পরে টিকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভান্ডারকক্ষে রাখা হয়। প্রথম ধাপে আসা টিকা ৬০ হাজার মানুষকে দেওয়া যাবে। সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন হুসাইন শাফায়াত প্রথম আলোকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, আজ পৌনে নয়টার দিকে সাতক্ষীরায় করোনাভাইরাসের টিকা পৌঁছেছে। পাঁচটি কার্টনে প্রতিটিতে ১ হাজার ২০০ করে মোট ৬ হাজার ভায়েল (শিশি) রয়েছে। প্রতিটি ভায়েল থেকে ১০ জনকে টিকা দেওয়া যাবে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

সিভির সার্জন জানান, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের একটি পিকআপ ভ্যানে পাঁচ কার্টন টিকা পৌঁছে দেওয়া হয়। সেগুলো নামিয়ে ভান্ডারকক্ষের ফ্রিজে রাখা হয়েছে। ফ্রিজটিতে ছয় লাখ ডোজ রাখা যাবে একসঙ্গে। টিকা রাখার জন্য আরও তিনটি ফ্রিজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে সিভিল সার্জন অফিসে। এ ছাড়া সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও একটি করে ফ্রিজ প্রস্তুত রয়েছে। প্রথম দফায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপেক্সে টিকা দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।  

বিজ্ঞাপন
জেলা সদর হাসপাতালে ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারটি করে বুথ স্থাপন করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপন করা হবে দুটি করে। প্রতিটি বুথে ছয়জন প্রশিক্ষিত ব্যক্তি এই টিকা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলায় করোনার টিকা সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা, টিকা পাবেন এমন ব্যক্তিদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টিকা ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে এসব কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক সভাপতি ও সিভিল সার্জনকে সদস্যসচিব করে ১৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ এই কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে থাকবেন।  উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তা প্রধান ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সদস্যসচিব করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৫টি শ্রেণির ব্যক্তিরা এই টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন প্রথম ধাপে।  

জেলা সদর হাসপাতালে ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারটি করে বুথ স্থাপন করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপন করা হবে দুটি করে। প্রতিটি বুথে ছয়জন প্রশিক্ষিত ব্যক্তি এই টিকা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে দুজন প্রশিক্ষিত টিকাকর্মী এবং চারজন স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। এই টিকা মাংসপেশিতে দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ দেওয়ার পর আট সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে।

টিকা–পরবর্তী কারও কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তার জন্য সিভিল সার্জনকে প্রধান করে মেডিসিন, বক্ষব্যাধি ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সাত সদস্য মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের খুলনা বিভাগের সহকারী বিক্রয় ব্যবস্থাপক গোলাম কবীর খান জানান, সাতক্ষীরায় ৫ কার্টন পৌঁছে দেওয়ার পর আজই খুলনায় ১৪ কার্টন, বাগেরহাটে ৪ কার্টন ও পিরোজপুরে ৩ কার্টন পৌঁছে দেওয়া হবে। সরকারের সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে বিনা খরচে তাঁরা এসব করোনাভাইরাস টিকা দেশের ৬৪ জেলায় পৌঁছে দিচ্ছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন