বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নির্যাতনের শিকার কলেজছাত্র শোয়েব আজিজ তালা সদরের জাতপুর গ্রামের শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে। তিনি চলতি বছর জাতপুর টেকনিক্যাল কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য খুলনায় কোচিং করছেন।

শোয়েব আজিজের বাবা শেখ আজিজুর রহমান গত রোববার রাতে উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আকিব, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র চক্রবর্তী, ছাত্রলীগ কর্মী জে আর সুমন, জয় ও নাহিদ হাসানের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী আজিজুর রহমান বলেন, তাঁর ছেলের সঙ্গে আসামিদের কোনো বিরোধ নেই, একসঙ্গে পড়েনও না। হঠাৎ রোববার বেলা একটার দিকে পূর্বপরিচিত নাহিদ হাসান মুঠোফোনে ছেলেকে ডেকে নিয়ে যান তালা সরকারি কলেজের সামনে। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় কলেজের একটি কক্ষে। সেখানে নিয়ে শোয়েব আজিজকে মারপিট করা হয়। মাথা ন্যাড়া করে এবং বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়।

আজিজুর রহমান আরও বলেন, ‘তারপর আমার স্ত্রীর কাছে ফোন করে ছেলেকে ফিরে পেতে দুই লাখ টাকা নিয়ে কলেজের সামনে যেতে বলা হয়। ওপ্রান্ত থেকে ছেলেকে মারপিটের চিৎকার শোনাচ্ছিল তারা। একপর্যায়ে আমার ছেলের একটি মেসেজের মাধ্যমে জানতে পেরে আমার ভাইপো ও কয়েকজন আত্মীয় ওই কলেজ থেকে তাকে উদ্ধার করে। আমার ছেলের জীবনটা নষ্ট করে দিল।’

অভিযোগের বিষয়ে তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আকিব বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়নি। তন্ময় আমার এক চাচাতো বোনকে “থ্রেট” করেছে। এ জন্য রাগের মাথায় তাকে মারপিট করা হয়েছে। তবে তার মায়ের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা চাওয়ার কথা ঠিক নয়।’

শোয়েব আজিজ বলেন, নাহিদ হাসান তাঁর পূর্বপরিচিত। তালা বাজারে যাতায়াতের সুবাদে পরিচয়। তাঁকে ফোন করে ডেকে নিয়ে আকস্মিকভাবে মারপিট শুরু করেন আকিবসহ অন্যরা। কলেজের পশ্চিম পাশে একটি কক্ষের মধ্যে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন চালান। হাত–পায়ে নির্মমভাবে মারপিট করে মাথা ন্যাড়া করে দেন। এরপর বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করেন। তারপর বাড়িতে ফোন দিয়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন তাঁরা। তাঁরা সবাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন