সভায় বলা হয়, সাতক্ষীরা করোনা পরিস্থিতি ক্রমে খারাপের দিকে যাওয়ায় ৩ জুন জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় ৫ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। তারপর থেকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য প্রশাসন লকডাউন সফল করার জন্য নানা ধরনের ব্যবস্থা নেয়। মানুষকে সচেতন করতে লিফলেট বিলি ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার অভিযান চালানো হয়। সাতক্ষীরা শহরসহ উপজেলা সদরে রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ প্রতিবন্ধকতা দেয়। তারপরও মানুষ সচেতন না হওয়ায় করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি; বরং খারাপের দিকে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে করোনা প্রতিরোধ কমিটি সভায় দ্বিতীয় দফায় ১১ থেকে ১৭ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করে।

সাতক্ষীরা করোনা পরিস্থিতি ক্রমে খারাপের দিকে যাওয়ায় ৩ জুন জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় প্রথম দফায় ৫ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয় , গতকাল বুধবার সকাল আটটা থেকে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত ১৮৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার শতকরা ৪৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১০০ জন শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৫৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। ১৩ জুন ৮১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৬৪ দশমিক ২ শতাংশ। এটি এখন পর্যন্ত জেলার সর্বোচ্চ করোনা শনাক্তের হার।

করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা লকডাউন ১৭ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত সাত দিন বাড়ানো হয়েছে। এ সময় যাতে মানুষ লকডাউনের নিময় মেনে চলতে বাধ্য হয়, এ জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান।

এদিকে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আজ থেকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) মো. ফরিদ হোসেন মিঞা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সকাল থেকে ওই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে।