default-image

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এক নারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার রাতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সাতক্ষীরার দেবহাটার রঘুনাথপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন (২৮), সাতক্ষীরা শহরের বাঁকাল এলাকার সাইদুর জামান (২৪) ও একই এলাকার গোলাম মোস্তফা (২৪)।

বিজ্ঞাপন

মামলার বাদী সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা শারমিন ফিরোজ জানান, গত সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরা শহরের বাঁকাল এলাকার ইসমাইল হোসেন (২৬) আহত অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে আরও দুই যুবক ছিলেন। চিকিৎসা নিয়ে তাঁরা যথারীতি চলে যান। পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে ওই তিন যুবকসহ আরও এক নারী আসেন জরুরি বিভাগে। এ সময় দেখা যায়, রোগী ইসমাইল হোসেনের খিঁচুনি হচ্ছে। তাঁর মাথার সিটি স্ক্যানসহ কয়েকটি পরীক্ষা করার জন্য বলা হয়। হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন খারাপ থাকায় তাঁদের সিটি স্ক্যান বাইরে থেকে করতে বলা হয়। এ নিয়ে তাঁরা খারাপ আচরণ করা শুরু করেন। রোগীর যেহেতু খিঁচুনি রয়েছে, তাঁকে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় ইসমাইলের সঙ্গে আসা লোকজন তাঁকে লাঞ্ছিত করেন ও নানা কটুকথা বলতে থাকেন। এ সময় জরুরি বিভাগে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের তাঁরা মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি পাশের কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন। পরে সিভিল সার্জনকে জানালে তিনি পুলিশসহ ঘটনাস্থলে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় গ্রেপ্তার সাইদুর জামানের বাবা রাফিনুর প্রত্যক্ষদর্শী আল আমিনের বরাত দিয়ে বলেন, গতকাল রাতে ইসমাইল হোসেন অসুস্থ হলে তাঁকে নিয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যান তাঁর সহযোগীরা। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে চিকিৎসা না দিয়ে খুলনা নিয়ে যেতে বলেন। একপর্যায়ে ওয়ার্ডের একজন কর্মচারীকে সেবা নিতে আসা রোগীসহ অন্যদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। ওই কর্মচারীকে একটি চড় মারেন সাইদুর জামান। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এক হয়ে ওই তিনজনকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। রাফিনুর দাবি করেন, মারধরের বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে পাল্টা ওই চিকিৎসক মামলা করেছেন।

বিজ্ঞাপন
নারী চিকিৎসককে লাঞ্ছিত ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মারধর করার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ওই তিন যুবকের ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) করা হলে প্রতিবেদন পজিটিভ আসে।
মো. আসাদুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সদর থানা, সাতক্ষীরা

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, নারী চিকিৎসককে লাঞ্ছিত ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মারধর করার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ওই তিন যুবকের ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) করা হলে প্রতিবেদন পজিটিভ আসে। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা শারমিন ফিরোজ সোমবার রাতে একটি মামলা করেছেন। ডোপ টেস্ট পজিটিভ আসায় পুলিশ বাদী হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেছে।

মন্তব্য পড়ুন 0