বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাঞ্চন কুমার রায় প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল বিকেলে তামান্নার বাবা আবদুল হক বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর গতকাল রাতে তুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ তাঁকে আদালতের মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ ও প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তালা উপজেলার বড় কাশিপুর গ্রামের মাদ্রাসাছাত্রী তামান্না খাতুনের সঙ্গে দুই মাস আগে পারিবারিকভাবে জেলা শহরের পুরোনো সাতক্ষীরার ঘোষপাড়া এলাকার ফারহাদ হোসেনের বিয়ে হয়। ঈদের পরদিন গত বুধবার স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন তামান্না। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে স্বামীকে নিয়ে বাড়ির পাশের কপোতাক্ষ নদের তীরে বেড়াতে যান। রাত আটটার দিকে হঠাৎ একজন এসে তামান্নাকে জাপটে ধরে মুখ চেপে ধরেন। এরপর কয়েকজন তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় পাশে থাকা স্বামী ফারহাদ তামান্নাকে নিয়ে কপোতাক্ষ নদে ঝাঁপ দেন। চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ এসে তাঁদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই রাতেই তামান্নার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক লিটন হোসেন আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল শুক্রবার রাতে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন তামান্নার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তাঁর বর্ণনার সঙ্গে মামলার এজাহারের মিল আছে। তাঁর অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।

তামান্না সঙ্গে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আছেন তাঁর মা তাসিনা বেগম ও ভাই নাঈমুর রহমান। নাঈমুর রহমান মুঠোফোনে সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বোনের অবস্থা ভালো নয়। শরীরের প্রায় ৪২ শতাংশ পুড়ে গেছে। বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছে। তাঁকে সেখানে রক্ত দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া তামান্না স্বামীর ডান হাত পুড়ে গেছে। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত। তাঁকে হাসপাতাল থেকে গতকাল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

নাঈমুর রহমান আরও বলেন, কলারোয়া পৌরসভার সাদ্দাম হোসেন নামের এক মালয়েশিয়াপ্রবাসী ছেলের সঙ্গে তাঁর বোনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু গত আড়াই বছরেও দেশে না ফেরায় ভালো পাত্র পেয়ে তামান্নাকে দুই মাস আগে বিয়ে দেন মা-বাবা। এর মধ্যে সাদ্দাম দেশে ফেরেন। এ ছাড়া আবদুর রউফ নামের এক প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ আছে তাঁদের। দুই পক্ষ মিলে তাঁর বোন তামান্না ও ভগ্নিপতি ফারহাদকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়েছে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন