বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাকিবুর রহমান বলেন, বিয়ে বন্ধ করার পরও অনেকে গোপনে আবার শ্বশুরবাড়ি চলে যায়। নগরঘাটা ইউনিয়নে ৪ এপ্রিল ১৬ বছর বয়সের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী বিয়ে বন্ধ করার এক সপ্তাহ পরে গোপনে মেয়েটিকে অভিভাবকেরা শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন। মেয়েটি এখন সেখানেই আছে। একই ইউনিয়নে ১৬ বছর বয়সের নবম শ্রেণির ছাত্রীর ১০ মার্চ বিয়ে আটকানোর দুই সপ্তাহ পরে তাকেও অভিভাবকেরা শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দেন।

১০ মাসে ৮৬টি বাল্যবিবাহ বন্ধ হলেও জেলায় এর মধ্যে ২ হাজারের বেশি বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়ে গেছে। এসব বিয়ের কিশোরী কনে অধিকাংশ সপ্তম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে।
সাকিবুর রহমান, সাতক্ষীরা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির প্রশাসনিক প্রধান

সাকিবুর জানান, তালা ও সাতক্ষীরা সদর ছাড়া জেলার অন্য উপজেলাগুলোতে বাল্যবিবাহ আটকানো যাচ্ছে না। বাল্যবিবাহ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে তালা উপজেলায়। তিনি বলেন, ১০ মাসে ৮৬টি বাল্যবিবাহ বন্ধ হলেও জেলায় এর মধ্যে ২ হাজারের বেশি বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়ে গেছে। এসব বিয়ের কিশোরী কনে অধিকাংশ সপ্তম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে।

তালা উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুল নাহার বলেন, বাল্যবিবাহের তথ্য পেলেই বিয়ে বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। গত ১০ মাসে এ উপজেলায় ৫৫-৬০টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে পেরেছেন। সবার সহযোগিতা ছাড়া বাল্যবিবাহ বন্ধ আন্দোলন সফল হওয়া দুরূহ ব্যাপার বলে জানান তিনি।

জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম শফিউল আযম বলেন, কোনো ধরনের সাজা কিংবা জরিমানা না দিয়ে শুধু মুচলেকা দিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। জেলায় প্রায় সব উপজেলায় বাল্যবিবাহ হচ্ছে। এর মধ্যে তালা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা যোগাযোগ বেশি থাকার কারণে বাল্যবিবাহ–সম্পর্কিত বেশি তথ্য পান এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। এ ছাড়া সাতক্ষীরা সদরের প্রোগ্রাম কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরাও বাল্যবিবাহ বন্ধের ব্যাপারে ভালো ভূমিকা রাখেন। অন্য উপজেলাগুলোতে ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও করোনার কারণে সাফল্য কিছুটা ক্ষীণ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন