সাতক্ষীরায় বিক্রির জন্য প্রস্তুত ‘পাগলা বস’ ও ‘নবাব’

দিনের বেশির ভাগ সময়ই নবাবের পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকতে হয়। গত মঙ্গলবার সাতক্ষীরা সদরের কুশখালি গ্রামে।
ছবি: প্রথম আলো

গরুটির নাম ‘পাগলা বস’। ওজন ৩৪ মণ। দাম হাঁকা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। এতেই আলোচনায় এসেছে সাতক্ষীরা সদরের রইচপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের পালন করা গরুটি। আট লাখ টাকা দাম হাঁকানো জেলার আরেকটি গরুর নাম রাখা হয়েছে ‘নবাব’। এর ওজন প্রায় ২৫ মণ। ফিজিয়ান জাতের এ গরুর মালিক সদর উপজেলার কুশখালী গ্রামের ফিরোজ হোসেন।

মঙ্গলবার সকালে খামারি আমজাদ হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ‘পাগলা বস’ নামে গরুটি দেখতে বেশ নাদুসনুদুস। আমজাদ হোসেন বলেন, সাড়ে তিন বছর বয়সের গরুটি এখন পালন করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। দুই বেলা গোসল, খাওয়ানোর কাজ করতে হয়। সয়াবিন খইল, বিচালি, ঘাস ও ভুট্টার কুড়া খাওয়াতে প্রতিদিন খরচ হয় ৫০০ টাকা। অস্ট্রেলিয়ান ফিজিয়ান জাতের ষাঁড়টির উচ্চতা পাঁচ ফুট আট ইঞ্চি। লম্বায় সাত ফুট ছয় ইঞ্চি।  

গরু নিয়ে গর্ব করলেও দুশ্চিন্তাও ভর করেছে আমজাদ হোসেনের। কোরবানির ঈদ এগিয়ে এলেও এখনো তেমন ক্রেতা আসছেন না। এত বড় গরু হাটেও নিয়ে যাওয়াও কঠিন। গত বছর গরুটির দাম সাত লাখ টাকা বলেছিলেন এক ব্যাপারী। এবার এটি ১০ লাখ টাকায় বেচতে চান। বিক্রি না হলে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

অন্যদিকে সদরের কুশখালী গ্রামে ফিরোজ হোসেনের বাড়িতে থাকা ‘নবাব’ নামে গরুটি বেশ অলস প্রকৃতির। উন্মুক্ত জায়গায় থাকতে চায় না। ফিরোজ হোসেন বলেন, দিনের বেশির ভাগ সময়ই তাঁর স্ত্রীকে নবাবের পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকতে হয়। খাওয়ানো গোসল করানো, চিকিৎসাসহ সবকিছুতে লক্ষ রাখতে হয়। দূরদূরান্ত থেকে অনেকে গরুটি দেখতে আসছেন। কিন্তু দামে মিলছে না। তাঁর প্রত্যাশিত আট লাখ টাকায় গরুটি বিক্রি না হলে লোকসান হবে।

ফিরোজের স্ত্রী হোসনে আরা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন গরুটির পরিচর্যা করায় একধরনের মায়া জন্মেছে। বিক্রির পর নবাবকে বিদায় দিতে হবে, তা ভাবতেই কষ্ট অনুভব করেন। এরপরও চান গরুটি এবারের ঈদের প্রত্যাশিত দামে বিক্রি হোক।