নগরের বাগবাড়ি, পুলিশ লাইনস, রিকাবিবাজার, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, ধোপাদিঘিরপাড়, ছড়ারপাড়, চালিবন্দর ও মাছিমপুর এলাকায় সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, এক-দুটি ছাড়া দোকানপাট তখনো খুলেনি। মানুষের চলাচলও তুলনামূলক কম। পথচলতি মানুষের মধ্যে মর্নিংওয়াকে বের হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যাই বেশি। বন্দরবাজার এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাত্রীর আশায় দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের নির্দিষ্ট গন্তব্যের নাম ধরে অনবরত হাঁক দিতে শোনা যায়। তবে নগরের সবচেয়ে ব্যস্ততম বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজার এলাকায় চিরচেনা সেই মানুষের ভিড় ছিল না।

বন্দরবাজার-জেলরোড সড়কের প্রবেশমুখে বেশ কয়েকজন শ্রমজীবী মানুষকে কাজের আশায় বসে থাকতে দেখা গেছে। তাঁদেরই একজন আমির আলী (৪৬)। তিনি জানান, প্রতিদিন শ্রম বিক্রি করেই তাঁর আয় হয়। কাজের আশায় তিনি এখানে বসে আছেন। কোনোদিন কাজ মেলে, কোনোদিন মেলে না।
নগরের অন্যান্য এলাকার চেয়ে সোবহানীঘাট এলাকায় তুলনামূলক মানুষের চলাচল ছিল বেশি। এ এলাকায় রয়েছে নগরের বৃহত্তম সবজির আড়ত। সে আড়তের সামনে সকাল সোয়া সাতটায় গিয়ে দেখা গেল, শতাধিক ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতারা আড়ত থেকে পাইকারি দরে সবজি কিনে ঠেলায় সাজিয়ে রাখছেন। কেউবা পানি ছিটিয়ে সবজিগুলো ভিজিয়ে আরও সতেজ রাখার চেষ্টা করছেন।

শাহাব উদ্দিন নামের পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতা বলেন, ১২ বছর ধরে তিনি নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঠেলায় করে সবজি বিক্রি করে আসছেন। আজও যথারীতি সোবহানীঘাট সবজির আড়ত থেকে পাইকারি দরে সবজি কিনেছেন। সেসব এখন বিভিন্ন পাড়ামহল্লায় গিয়ে ফেরি করে বিক্রি করবেন। এখন প্রতিদিন গড়ে সবজি বিক্রি করে তাঁর ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা লাভ হয়। তা দিয়েই চলে ছয় সদস্যের সংসার।

অনেক সবজিওয়ালার ভিড়ে লম্বা এক তরুণকেও ঠেলায় সবজি গুছিয়ে রাখতে দেখা যায়। কাছে গিয়ে জানা যায়, বাইশ বছরের ওই তরুণের নাম নাহিদ মিয়া। তিনি জানান, একসময় তিনি ফুটপাতেই থাকতেন। হাত পেতে মানুষজনের কাছে টাকা চেয়ে তা দিয়ে খাবারের প্রয়োজন মেটাতেন। পরে তাঁর যখন ১৫ বছর বয়স, তখন এক ব্যক্তির আর্থিক সহায়তায় তিনি সবজির ব্যবসা শুরু করেন। সংসারীও হয়েছেন। নগরের একটা বস্তিতে স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছেন।

সকাল পৌনে আটটার দিকে মাছিমপুর এলাকায় দুই কুকুরের ঝগড়া থামাতে দেখা যায় এক মধ্যবয়স্ক লোককে। কুকুরের ঘেউ ঘেউ থামলে তিনি পাশে থাকা একটি রিকশায় গিয়ে বসেন। আলাপে আলাপে জানা গেল, আহমদ মিয়া (৫২) নামের ওই ব্যক্তির বাড়ি রংপুর। তিনি সিলেট শহরে প্রায় দুই দশক ধরে রিকশা চালাচ্ছেন। এক যাত্রী নগরের জিন্দাবাজার এলাকায় যাবেন, তাই তাঁকে বসিয়ে রেখেছেন। ওই যাত্রী বাসা থেকে বেরোলে নির্দিষ্ট গন্তব্যে তাঁকে পৌঁছে দেবেন।

default-image

আহমদ মিয়ার সঙ্গে কথা বলতে বলতে আরেক দফা বৃষ্টি শুরু। সকাল ছয়টার পর এ নিয়ে তিন দফা বৃষ্টি হলো। বৃষ্টির ফোঁটা পড়তেই রাস্তায় চলাচলরত দু-চারজন মানুষকে দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয় নিতে দেখা যায়। দৌড়াতে গিয়ে হঠাৎ পিছলে পড়েন চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। তা দেখে বৃষ্টির ফোটা থেকে বাঁচতে একটি বন্ধ দোকান কোঠার সামনে আশ্রয় নেওয়া এক ব্যক্তি পিছলে পড়া ব্যক্তিকে টেনে তুলেন রাস্তা থেকে। পিছলে পড়ে যাওয়া ব্যক্তি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দোকান কোঠার সামনে আসেন। পা ঝাড়তে ঝাড়তে বলেন, ‘মনে হয় মচকে গেছে!’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন