বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ ডিসেম্বর ষষ্ঠ ধাপে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউপির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, সোমবার ৩ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। ৬ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই হবে। ১৩ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ৩১ জানুয়ারি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোট গ্রহণ হবে।

এর মধ্যে কয়েকজন চেয়ারম্যান ও সাধারণ সদস্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে না পেরে জেলা প্রশাসক, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেন। সর্বশেষ গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় নির্বাচন ভবনের সামনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেন। এতে কাজ না হওয়ায় তিনজন চেয়ারম্যান প্রার্থী উচ্চ আদালতে রিটও করেন। আদালত তাঁদের মনোনয়নপত্র দেওয়া ও জমা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু উচ্চ আদালতের আদেশের কপি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে না আসার কারণে তাঁরা সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনেও জমা দিতে পারেননি।

সোমবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ১১টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ১৬ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদে ৪০ জন ও সাধারণ সদস্যপদে ১৩৮ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত আবদুল মান্নান চৌধুরী, বিপুলাসার ইউনিয়নে ইকবাল মাহমুদ, ঝলম উত্তর ইউনিয়নে মজিদ খান, ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়নে আশিকুর রহমান হাওলাদার, উত্তর হাওলা ইউনিয়নে আবদুল হান্নান, খিলা ইউনিয়নে আল আমিন ভূঁইয়া ও মৈশাতুয়া ইউনিয়নে মফিজুল ইসলাম একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ৬ জানুয়ারি বাছাইয়ে এই সাত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে তাঁরা বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হবেন।

অন্য চার ইউনিয়নের মধ্যে বাইশগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের আলমগীর হোসেনসহ তিনজন, লক্ষ্মণপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহিনউদ্দিন চৌধুরীসহ দুজন, হাসনাবাদে আওয়ামী লীগের কামাল হোসেনসহ দুজন, সরসপুরে আওয়ামী লীগের আবদুল মান্নানসহ দুজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, মনোহরগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদানে বাধা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশিত হলে কৌশল হিসেবে চারটি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর বাইরে বাইশগাঁও ইউনিয়নে দুজন, লক্ষ্মণপুর, সরসপুর ও হাসনাবাদে একজন করে পছন্দের ব্যক্তিকে ডামি প্রার্থী করা হয়। ডামি প্রার্থীরা বাছাইয়ে টিকলে ৬ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। আর বাছাইয়ে বাদ পড়লে ওই তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না।

মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নাজির হোসেন মিয়া বলেন, ‘১১ ইউনিয়নের মধ্যে সাতটি ইউনিয়নে একজন করে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের। কেন এত কম প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেন, তা আমি বলতে পারব না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন