অরুণা ও মাসুকের চার ছেলে ও দুই মেয়ে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় মাসুক জীবিকার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে রিকশা চালাতে চলে গেছেন। স্ত্রী ও সন্তানদের রেখে গেছেন পাশে থাকা আপন ছোট ভাই হাসমত মিয়ার পরিবারের সঙ্গে।

এই প্রতিবেদক গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে নাসিরনগর ডাকবাংলো এলাকা থেকে নৌকায় উপজেলার হাওরবেষ্টিত গোয়ালনগর, ভলাকুট ও চাতলপাড় ইউনিয়নের উদ্দেশে রওনা হন। বেলা একটার দিকে চাতলপাড়ের কদমতলী পশ্চিমের মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় সরেজমিন অরুণা-মাসুক মিয়ার বসতঘর পানিতে ডুবে থাকতে দেখা গেছে। অবশ্য তাঁদের বসতঘরের পাশের একটি উঁচু জায়গায় ৮-১০টি ঘর চোখে পড়ে। কিন্তু ওই উঁচু জায়গায় থাকা ঘরগুলোর আঙিনায় হাঁটুসমান পানি। বেশ কয়েকটি ঘরের মেঝেতেও পানি চলে এসেছে।

অরুণা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কয়েক মাস আগে জমিজমা বিক্রি করে ৭-৮ লাখ টাকা খরচ করে ঘরটি নির্মাণ করেছি। কিন্তু পানিতে ঘরটি শেষ। সব আসবাবসহ ঘরটি এখন পানির নিচে। স্বামী ও ছেলেমেয়েদের নিয়ে দেবরের বাড়িতে ঠাঁই নিয়েছি। কিন্তু তাঁদের বাড়িতেও উঠেছে পানি। জন্মের পর এত পানি আর দেখিনি।’

পাশেই থাকেন কৃষক আকবর আলী, তাঁর স্ত্রী হারুন্নেসা বেগম, দুই ছেলে আক্কাস আলী (২০) ও তারা মিয়া (১৩), চার মেয়ে আলমনেছা বেগম (১০), তামেনা আক্তার (৯), বিউটি আক্তার (৭) ও সুবর্ণা আক্তার (৫)। কিন্তু তাঁর বসতঘরের সামনেও হাঁটুসমান পানি। ঘরের খাবার নেই বলে আকবর মাছ ধরতে গেছেন।

আকবরের স্ত্রী হারুন্নেসা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাত দিন ধরে পানিতে বসবাস করছি। দুই দিন ধরে ঘরের ভেতরে পানি চলে এসেছে। পানির মধ্যে থাকতে থাকতে পায়ে ঘা হয়ে গেছে। রান্নাঘরও পানির নিচে। শুকনা খাবার খেয়ে দিন চলছে। ছেলেমেয়েদের বাবা খাবার আনলে খেতে পারি, না আনলে খেতে পারি না। মেম্বর, চেয়ারম্যান কেউই খবর নেননি। সাহায্য তো দূরের কথা।’

গতকাল সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত উপজেলার তিতাস ও মেঘনা নদীর কূলঘেঁষা ভলাকুট, চাতলপাড় ও গোয়ালনগর ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী এলাকা ঘুরে সহস্রাধিক পরিবারকে পানিবন্দী অবস্থায় দেখা গেছে। অনেকে বসতঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

নাসিরনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বের হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলায় পানি বেড়েই চলেছে। সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের পানি প্রতিদিন নেমে উপজেলায় আসছে। পানি তোড়ে এখন পর্যন্ত দুটি সেতু ভেঙে পড়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন