সাদিয়ার বড় বোন ফারজানা আক্তার বরিশাল বিএম কলেজে স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী, মেজ বোন শারমিন আক্তার বানারীপাড়া ডিগ্রি কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ ও ছোট বোন হাবিবা আক্তার বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোকেশনাল শাখায় নবম শ্রেণির ছাত্রী। ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্য আর সামাজিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে সাদিয়াদের, কিন্তু হাল ছাড়েননি। একবারও ভাবেননি, এগোতে পারবেন না। সাদিয়া ঠিকই জয়ী হতে পেরেছেন। কীভাবে এটা সম্ভব? এ প্রশ্ন রাখলে সাদিয়া বলেন, ‘অদম্য ইচ্ছাশক্তি, নিরলস অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম কখনো বিফলে যায় না।’

এসএসসি পাসের পর সাদিয়া ভর্তি হন বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে। তখন থেকে টিউশনি শুরু করে নিজের পড়াশোনা আর মেডিকেল ভর্তির জন্য কোচিং করার টাকা জমাতে শুরু করেন। সাদিয়া বললেন, ‘আমার জমানো টাকায় কোচিং করেছি। তা ছাড়া যেটুকু পড়াশোনা করতাম, তা বুঝেশুনে করতাম। মুখস্থ বিদ্যার ওপর ভর করিনি কখনো।’ বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে এবং বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন সাদিয়া। পিএসসি ও জেএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছিলেন তিনি।

শুধু পড়াশোনায় নয়, বিতর্ক-আবৃত্তিসহ সাংস্কৃতিক নানা অঙ্গনেও কৃতিত্ব রয়েছে সাদিয়ার। ২০১৮ সালে তিনি জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক গল্প বলায় প্রথম স্থান অধিকার করে রাষ্ট্রপতি পদক পান। ২০১৭ সালে জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় হন উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায়। সাদিয়ার স্বপ্ন একটাই—চিকিৎসক হওয়া। তবে কীভাবে মেডিকেলে ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ চালাবেন, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।

সাদিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মতো দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব যদি সরকার নেয়, তাহলে আমরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাব।’

সাদিয়ার বাবা মিজানুর রহমান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই মেয়েটা পড়াশোনায় ভালো। খুব আগ্রহ নিয়ে কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। আমি খরচ জোটাতে পারিনি। পরিবারের খাওন জোটাব না পড়াশোনার খরচ—সব মিলিয়ে হিমশিম অবস্থা। এখন চিন্তা সামনের পড়াশোনা নিয়ে। অনেকে সাহায্য করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। জানি না, কত দূর কী হবে!’