বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সান্তাহার জংশন স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন ১৬ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। কয়েক হাজার যাত্রী নিয়মিত এ স্টেশন থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্টেশনে যাতায়াত করে। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য স্টেশনে একটি পূর্ণাঙ্গ রেলওয়ে থানা ও নিরাপত্তাচৌকি রয়েছে। রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রচুর সদস্য থাকার পরও স্টেশনে বন্ধ হচ্ছে না পকেটমার, ছিনতাইকারী ও বখাটেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

সান্তাহার প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম আম্বিয়া জানান, কয়েক দিন আগে মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে আন্তনগর দ্রুতযান ট্রেনে মেয়ের মুঠোফোন খোয়া গেছে।

সান্তাহার বাজার এলাকার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন ও উপজেলার সারিন্দা গ্রামের দীঘিপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা রায়হান বলেন, ‘ট্রেনে যাতায়াতের সময় স্টেশন এলাকায় আমাদের মুঠোফোন ও টাকা পকেটমাররা নিয়ে গেছে।’

১৫ সেপ্টেম্বর নওগাঁর রানীনগর উপজেলার কাসিমপুর গ্রামের বাসিন্দা ইতালিপ্রবাসী সোহেল রানা পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে যাওয়ার সময় তাঁর ৩৫ হাজার টাকা, ২০০ ইউএস ডলার, গ্রিন কার্ডসহ মূল্যবান কাগজপত্র খোয়া যায়। এ ঘটনায় রেলওয়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ গ্রহণ না করে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নিয়েছে।
ট্রেনের যাত্রী, তাঁদের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ১১ আগস্ট ট্রেন চলাচল শুরুর পর থেকে অর্ধশতাধিক ব্যক্তির তিন লক্ষাধিক টাকা খোয়া গেছে। নগদ টাকার পাশাপাশি প্রায় ২০ থেকে ৩০টি মূল্যবান মুঠোফোন ও নারী যাত্রীদের ব্যাগসহ সোনার গয়না খোয়া গেছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, স্টেশনের ২ ও ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে মাদকসেবীদের ব্যাপক তৎপরতা চলে। মাদকসেবীরা সেখানে বসে মাদক সেবন করে। স্টেশনে আসামাত্র ভিড় করে বখাটেরা। ট্রেনে ওঠার সময় নারী যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হয়। অপরাধীদের নেতৃত্ব দেওয়া একটি চক্র সার্বক্ষণিক স্টেশন এলাকায় অবস্থান করে। অভিযোগ রয়েছে, এ চক্রের সঙ্গে রেল পুলিশের আঁতাত রয়েছে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সান্তাহার জিআরপি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদ আলী বলেন, পুলিশ নিয়মিত তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এরপরও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন