বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল্লাহ জানান, শনিবার রাত তিনটার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন দুর্বৃত্ত হঠাৎ তাঁর বাড়ির সামনে আসে। এ সময় দুর্বৃত্তরা বাড়ি লক্ষ্য করে মোট নয়টি ককটেল নিক্ষেপ করে ও তিনটি গুলি ছোড়ে। নিক্ষেপ করা ককটেলের পাঁচটি বিস্ফোরিত হয়। বাকিগুলো অবিস্ফোরিত থেকে যায়। এ সময় বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে তিনি ঘুমিয়ে থাকায় বিষয়টি শনিবার সকালে টের পান।

default-image

রফিকুল্লাহ অভিযোগ করেন, ‘সাংসদ থাকাকালে আজিজুল হক নগরবাড়ী এলাকায় আট একর সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে বিপণিবিতান গড়ে তোলেন। এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি তিনি (রফিকুল্লাহ) বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ায় আজিজুল হক তাঁর ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন। এর জেরে শুক্রবার দুপুরে তিনি বক্তারপুর গ্রামের একটি বাড়িতে কুলখানির অনুষ্ঠানে গেলে সাবেক সাংসদ লোকজন নিয়ে সেখানে গিয়ে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ও একপর্যায়ে হত্যার হুমকি দেন। এ ঘটনায় তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ওই দিন রাতে আমিনপুর থানায় জিডি করেন।’

এ বিষয়ে সাবেক সাংসদ খন্দকার আজিজুল হক বলেন, কুলখানির অনুষ্ঠানে তাঁকে (রফিকুল্লাহ) কোনো রকমের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়নি। অথচ তিনি রাজনৈতিকভাবে অপদস্থ করতে থানায় প্রাণনাশের হুমকির জিডি করেছেন। আর জিডির বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠিত করতেই রফিকুল্লাহর বাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের নাটক সাজানো হয়েছে।

আজিজুল হক দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে এটি চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। দলের ভেতরে একটি মহলও এর সঙ্গে জড়িত। আসন্ন জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে তাঁরা এমন ষড়যন্ত্র করছেন।

এ এম রফিকুল্লাহ বলেন, ‘আমার বাড়িতে শনিবার রাতের হামলার জন্য খন্দকার আজিজুল হকই দায়ী। তাঁর নির্দেশে অনুসারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমি তথ্য পেয়েছি। থানায় জিডি করায় ও শনিবার জেলা আওয়ামী লীগ বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় তিনি (আজিজুল) আমার ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন।’

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল্লাহর বাড়িতে হামলার প্রতিবাদে নগরবাড়ী নৌবন্দরের বাস ও ঘাটশ্রমিকেরা কাশিনাথপুরে পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।

এ ছাড়া নগরবাড়ী নৌবন্দর এলাকায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন ও শ্রমিকদের অংশগ্রহণে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বেড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল হকসহ আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা অংশ নেন। রফিকুল্লাহ নগরবাড়ী ঘাট বণিক সমিতির সভাপতি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে পাবনা-২ আসনের আওতাধীন বেড়া ও সুজানগর উপজেলায় আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব চলছে। আগামী ২০ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে এই দ্বন্দ্ব আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। সাবেক সাংসদ খন্দকার আজিজুল হক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন