আজ সকাল ১০টার দিকে বিআইএইচএম কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, ‘আপনারা পুলিশ ভাইদের আহত করবেন না, শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বরত ব্যক্তিদের আহত করবেন না, বিশৃঙ্খলা তৈরি করলে টিকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ তবে এসব ঘোষণার পরও মানুষের জটলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বিআইএইচএমের মূল ফটক থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টিকা নিতে আসা মানুষের লাইন দেখা গেছে। এখানে টিকা নিতে আসা অধিকাংশ নারী-পুরুষ স্থানীয় বিভিন্ন কারখানায় কাজ করেন বলে জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবারও এই কেন্দ্রে টিকাপ্রত্যাশী ব্যক্তিদের হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে তিনজনসহ পুলিশের লাঠিপেটায় অন্তত আটজন আহত হয়েছিলেন।

আশুলিয়ার বিশমাইলের কাঠগড়া এলাকা থেকে টিকা নিতে এসেছেন মো. মমিনুল ইসলাম। তাঁর বাসার কাছাকাছি সাভার সেনানিবাস এলাকায় টিকাকেন্দ্র রয়েছে জানালে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সবাই বলল সাভারে টিকা দিচ্ছে, তাই সবার সঙ্গেই আসছি। জানলে তো আর আসতাম না এ ঝামেলার মধ্যে।’

default-image

একই এলাকা থেকে আসা লিজা আক্তার বলেন, ‘টিকা নিতে আইসা তো বিপদে পরছি। ধাক্কাধাক্কিতে জীবন শেষ, কেন যে ঢুকলাম এখানে! এখন বাইর হমু কেমনে, তা–ই ভাবতেছি।’

সাড়ে ১০টার দিকে মানুষের হুড়োহুড়িতে এক শিশু পড়ে আঘাত পেয়েছে বলে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ১০ মিনিট পরেই টিকা নিতে এসে ভিড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এক নারী। পরে ওই নারীকে স্ট্রেচারে করে টিকাকেন্দ্র থেকে বের করে নিয়ে যান নিরাপত্তাকর্মীরা। একটু পরে মাইকে ঘোষণা আসে জামালের মা পদদলিত হয়ে আহত হয়েছেন। পরে তাঁকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা দুই নারী ভিড়ের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন বলে মাইকে জানানো হয়।

টিকাকেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সোহাগ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, হঠাৎ করে দুই দিন ধরে মানুষের ভিড় বেড়ে গেছে। অনেকেই ভিড়ের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি কয়েকজন উদ্ধার করে পানি কিনে খাইয়েছেন।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সায়েমুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, সবার সহযোগিতা ছাড়া পরিস্থিতি মোকাবিলা করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে টিকাদান চালু রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন