সিলেট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়

সামনে পরিষ্কার, পেছনে নোংরা

বিজ্ঞাপন
default-image

বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের সামনে আছে ডাস্টবিন। শ্রেণিকক্ষের আঙিনা-ক্যাম্পাস সবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। তবে উল্টো চিত্র শ্রেণিকক্ষের পেছনের দিকে। স্থানটা ময়লা-আবর্জনায় ঠাসা। বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত শৌচাগারে ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে জমে রয়েছে পানি। গাছের নিচে ঝোপঝাড়ের মতো ওই অংশে মশা ওড়াউড়ি করছে।

এমন চিত্র সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের। নগরের বাণিজ্যিক এলাকা কালীঘাটে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান। ১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী আছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন। শিক্ষক রয়েছেন ৫০ এবং কর্মচারী ৫ জন। ঈদের ছুটির কারণে ৮ আগস্ট বন্ধ হওয়া বিদ্যালয়টি গত মঙ্গলবার খুলেছে।

জানতে চাইলে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন স্কুল–কলেজের শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এবং এডিস মশা যাতে বংশ বিস্তার করতে না পারে, সে জন্য সচেতন করা হচ্ছে। এ ছাড়া নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান চলছে।

গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রেণিকক্ষের সামনে রাখা সিটি করপোরেশনের প্লাস্টিকের ডাস্টবিন। সেগুলোতে খালি বোতল, খাবার সামগ্রীর খালি প্যাকেট ফেলা হয়েছে। বিদ্যালয়ের আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। তবে বিদ্যালয়ের কয়েকটি পরিত্যক্ত শ্রেণিকক্ষ ও ক্যানটিনের পেছন ময়লা–আবর্জনায় ঠাসা। বিস্কুট, কেক, চিপস, জুসের খালি প্যাকেট, খালি বোতলে বৃষ্টির পানি জমে আছে। গাছের পাতা মাটিতে পড়ে আবর্জনার স্তূপ তৈরি হয়েছে। ক্যানটিনের সামনেও খাবার সামগ্রীর খালি প্যাকেট ফেলে রাখা হয়েছে। উত্তর দিকে বিদ্যালয়ের পেছনের ফটকে বন্দরবাজার হকার মার্কেটসংলগ্ন দেয়ালের পাশে ময়লা-আবর্জনা, বিভিন্ন খাবার সামগ্রীর খালি প্যাকেট, খালি বোতল ফেলে রাখা হয়েছে। ফটকসংলগ্ন পশ্চিম অংশে কয়েকটি কেক ও বিস্কুটের প্যাকেটে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। পেছনের ফটকসংলগ্ন পূর্ব দিকটি বিদ্যালয়ের ক্যানটিনের পেছনের অংশ। সেখানে থাকা শৌচাগারের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। অর্ধেক দেয়াল দেওয়া ১০টি কামরা আকারে শৌচাগারে জাল বুনেছে মাকড়সা। এর নিচে পাইপগুলো ভাঙা। সেখানে কালো পানি জমে রয়েছে। একটু সামনে এগোলে ছয়-সাতটি মাঝারি আকারের বাঁশগাছ। সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে মশার উৎপাত লক্ষ করা গেছে।

বাণিজ্যিক এলাকা কালীঘাট বাজারসংলগ্ন বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে দেয়ালঘেরা অংশের ডি-ব্লকের দুই তলাবিশিষ্ট ভবন রয়েছে। এই ভবনের পেছনে ছাউনি ও দরজা-জানালাবিহীন পরিত্যক্ত একটি ঘরের পাশে গাছের পাতার সঙ্গে স্তূপ আকারে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট, নারিকেলের খোসা ফেলে রাখা হয়েছে। এ অংশে বড় বড় কয়েকটি গাছের নিচে রয়েছে ছোট-ছোট গাছ, যা ঝোপ-ঝাড়ে পরিণত হয়েছে। ফেলে রাখা খালি প্যাকেটে পানি জমেছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শিলা সাহা বলেন, ‘ঈদের বন্ধের আগে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে মশকনিধনের ওষুধ ছিটানো হয়েছে। বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সংকট রয়েছে। আমরা চেষ্টা করি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে।’

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, আগস্টের শুরুর দিকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশার ওষুধ ছিটানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের স্কাউট এবং শ্রেণির অধিনায়কের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা অভিযানও পরিচালিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের পেছনের দিকের ময়লা-আবর্জনার কারণ স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং ভ্রাম্যমাণ লোকজন। তাঁরা যত্রতত্রভাবে ময়লা ফেলে দিচ্ছেন। বন্দরবাজার হকার মার্কেটের একটি ভবনের ওপরে মুরগির ফার্ম থেকে বিষ্ঠা এবং ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া বিকেল থেকে সন্ধ্যার দিকে বিদ্যালয়ের ছাদে মাদকসেবীরা আড্ডা জমায়। বিষয়টি সম্পর্কে সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা কামনা করে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কবির খান বলেন, বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ ১০টি। এর বিপরীতে ছিলেন মাত্র তিনজন। গত মঙ্গলবার দুজন নতুন করে যোগ দিয়েছেন। বিদ্যালয় পরিষ্কার রাখতে তাঁদের কাজে লাগানোর পাশাপাশি দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে বাইরে থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী আনা হবে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক কুমার রায় বলেন, পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আড্ডার বিষয়টি কোতোয়ালি থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। বিদ্যালয়সংলগ্ন মুরগির ফার্মের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন