default-image

সিলেটে পুলিশি হেফাজতে মো. রায়হান আহমদের (৩৪) নিহত হওয়ার ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল হারুন অর রশিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শনিবার সকালে মহানগর পুলিশ লাইনস থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যোগাযোগ করলে পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামান প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে। এর আগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে ১৯ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

পিবিআই জানায়, ১০ অক্টোবর দিবাগত রাত তিনটার দিকে রায়হানকে কোতোয়ালি থানার বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনে রায়হান মারা যান। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার পরদিন হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। মামলায় আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। মামলার পর মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ওই ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁঞাসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করে। তাঁদের মধ্যে হারুন ছিলেন। আকবর ১৩ অক্টোবর থেকে পলাতক আছেন।

পিবিআই সূত্র আরও জানায়, পুলিশ থেকে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ে হস্তান্তর হলে রায়হানের লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়। নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ফাঁড়ির ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও গায়েব, তথ্য গোপন করাসহ এসআই আকবরকে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে ২১ অক্টোবর ফাঁড়ির ‘টু-আইসি’ পদে থাকা এসআই হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।  

রায়হান নগরীর একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে চাকরি করতেন। তিনি স্ত্রী, আড়াই মাস বয়সী এক মেয়ে ও মাসহ আখালিয়ার নিহারিপাড়ার বসবাস করতেন। পুলিশ হেফাজতে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় 'বৃহত্তর আখালিয়া সংগ্রাম পরিষদ' নামে এলাকাবাসীর সম্মিলিত মোর্চা প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে তৎপর। নির্যাতনের মূল হোতা পলাতক এসআই  আকবরসহ জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিকেলে আখালিয়া পাশের মদিনা মার্কেট পয়েন্টে মানববন্ধন করবে সংগ্রাম পরিষদ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0