বিজ্ঞাপন

উপজেলার কাঁকড়াজান ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামের রাবেয়া বেগমের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে একটি মাংস সমিতি। সমিতিতে ৩৩ জন নারী সদস্য আছেন। তাঁরা প্রতি মাসে ৩০০ টাকা করে জমা রাখেন। বছর শেষে তাঁদের সমিতিতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো জমা হয়। এবার তাঁরা ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে একটা গরু কিনেছেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ওই গরু জবাই করে তাঁরা মাংস ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।

রাবেয়া বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের আগে নানা কিছু কেনাকাটায় টাকা শেষ হয়ে যায়। এ সময় তাঁদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে গরুর মাংস কেনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। নারীরা সমিতি করার কারণে ঈদের আগে পরিবারের পুরুষদের অনেক চাপ কমেছে। এতে সমিতির সদস্যদের মধ্যে ঈদের আনন্দ বেড়ে যায়।

হামিদপুর চৌরাস্তা গ্রামের মাংস সমিতির সভাপতি ইসমাইল হোসেন বলেন, তাঁদের সমিতিতে সদস্যসংখ্যা ৫৩ জন। প্রত্যেকে মাসিক ২০০ টাকা করে জমা দেন। বছর শেষে সমিতিতে জমা হয় ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে গরু কিনে সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। ইসমাইল আরও বলেন, তাঁদের গ্রামে এমন অন্তত ১০টি সমিতি আছে।

default-image

সখীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানবান্ধা গ্রামের অটোরিকশাচালক নিজাম উদ্দিন বলেন, ঈদের আগে নতুন জামা-কাপড় কেনাসহ অনেক খরচ হয়। হাত খালি হয়ে যায়। সমিতি করলে অনায়াসে ৭-৮ কেজি মাংস পাওয়া যায়। আর এ মাংস দিয়ে ঈদের দিন নিজেরাও খাওয়া যায়, অতিথিও আপ্যায়ন করা যায়।

মাংস সমিতি এখন স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানালেন সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বাবুল আক্তার। তিনি বলেন, সারা বছর একটু একটু সঞ্চয় করে ঈদের আগে পশু কিনে জবাই করে মাংস ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে তাঁরা বাড়তি আনন্দ পেয়ে থাকেন। এতে সংসারের চাপও অনেক কমে যায়। বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণে সংসারে সমতা ফিরে আসে। নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন