default-image

সালথায় ৫ এপ্রিলের সহিংসতার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে করেন না বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ। ওই ঘটনাকে ‘মানুষের তাৎক্ষণিক ক্ষোভের প্রকাশ’ দাবি করে নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছেন তিনি।

আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের মহাকালীর মোড় এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় ‘সালথা উপজেলায় সহিংস ঘটনা প্রসঙ্গে’ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা বিএনপি।

সংবাদ সম্মেলনে শামা ওবায়েদ বলেন, সারা দেশে কথিত লকডাউন চলাকালে (যখন সবকিছু চালু কিন্তু দোকানপাট বন্ধ করা হয়েছে) বাংলাদেশের একটি অতি প্রত্যন্ত এলাকা সালথার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে এসি ল্যান্ডের (সহকারী কমিশনার) লোকজন একজন বৃদ্ধসহ কয়েকজন ব্যক্তিকে অপমান ও লাটিপেটার ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা ঘটার কোনো প্রয়োজন ছিল না। তিনি বলেন, এসি ল্যান্ডের সোনাপুরের ফুকরা বাজারের মতো একটি প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে লকডাউন কার্যকরের নামে মারপিট করা একদিকে যেমন দুঃখজনক, অপর দিকে তেমনি হাস্যকর।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, কোনো রকম তদন্ত না করে পুলিশ পরে যে মামলা দিয়েছে, তাতে বেছে বেছে বিএনপির সব স্তরের নেতা-কর্মীর নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা আজ বাড়িতে থাকতে পারছেন না। তাঁরা পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে শামা ওবায়েদ বলেন, নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদেন্ত করে এ ঘটনার সঙ্গে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তার আগে যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের মুক্তি দিতে হবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের গুলিতে যে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, পুলিশের মামলায় তাঁদের আসামি করা হয়েছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এসে সালথার ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত দাবি করে সব দোষ বিএনপির ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন। ওই দলের সদস্য আওয়ামী লীগের দুই সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান ও কর্নেল (অব.) ফারুখ খানের নাম উল্লেখ করে শামা বলেন, ওই দুই নেতা যে দুটি আসন থেকে নির্বাচন করেন, তা সালথা-নগরকান্দার সঙ্গে লাগোয়া, তাঁদের তো জানার কথা এখানকার বাস্তবতা। কিন্তু তাঁরা রাজনৈতি স্বার্থে সত্য গোপন করে মিথ্যার প্রচার করেছেন। তিনি ওই দুই নেতার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান।

শামা ওবায়েদ বলেন, যে ঘটনা সেদিন সালথায় ঘটেছে, তা অবশ্যই নিন্দনীয়। তবে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। এটি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা নয়।

‘ঘটনাটি পরিকল্পিত হলে বিএনপির কী সমস্যা’ সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করলে তাঁর উত্তর দেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোদাররেছ আলী। তিনি বলেন, ‘যদি পরিকল্পিত হয়ে থাকে তাহলে আমাদের দেশের গোয়েন্দা দপ্তরগুলো কী করছিল, তারা এ পরিকল্পনার কথা আগে থেকে কেন জানতে পারেনি।’

সালথা উপজেলা ফরিদপুর-২ সংসদীয় এলাকার অন্তর্ভুক্ত। নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা এবং সদরপুরের কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনের বর্তমান সাংসদ জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন শামা ওবায়েদ। শামা বিএনপির সাবেক মহাসচিব ওবায়দুর রহমানের মেয়ে। ওবায়দুর রহমান দীর্ঘদিন ফরিদপুর-২ আসনের সাংসদ ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি আলী আশরাফ, যুবদলের সাবেক সভাপতি আফজল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জুলফিকার হোসেন, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজীর আহমেদ, জেলা যুবদলের সভাপতি রাজীব হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শামা ওবায়েদের বক্তব্যের বিষয়ে সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি দোলোয়ার হোসেন বলেন, ফরিদপুরে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেত্রী যা বলেছেন তা সত্যের অপলাপ মাত্র। এ সত্য সূর্যের মতো স্পষ্ট যে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করার জন্য বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজতের পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্তের ফল।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন