default-image

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত সালথা থানায় মোট পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি, বীর মুক্তিযোদ্ধার পক্ষ থেকে একটি, ইউএনওর পক্ষ থেকে একটি এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) পক্ষ থেকে দুটি মামলা করা হয়েছে।

ফরিদপুরের সালথায় উপজেলা কমপ্লেক্সে অবস্থিত বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়, ইউএনও ও সহকারী কমিশনারের (এসি ল্যান্ড) গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, ভূমি অফিস, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এদিকে গত সোমবার রাতের এ সহিংসতার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়াল ৬১। এর মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

গত সোমবার রাতের এ সহিংসতার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়াল ৬১।

এ ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ছয় সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসলাম মোল্লাকে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসলাম মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তে ক্ষয়ক্ষতির যে বিবরণ পাওয়া গেছে, তা থেকে ধারণা করা যায়, ক্ষতির পরিমাণ আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার মধ্যে হবে। তিনি আগামীকাল রোববার জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তদন্তে ক্ষয়ক্ষতির যে বিবরণ পাওয়া গেছে, তা থেকে ধারণা করা যায়, ক্ষতির পরিমাণ আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার মধ্যে হবে। আগামীকাল রোববার জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আসলাম মোল্লা, তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)
বিজ্ঞাপন

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকারও বলেন, প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির যে হিসাব জানা গেছে, তাতে ক্ষতির পরিমাণ তিন কোটি টাকার নিচে হবে না।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামাল পাশা বলেন, সালথার ঘটনায় আজ শনিবার পর্যন্ত মোট ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মিরান মোল্লা (৩৫) নামের একজন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ছাড়া দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাঁদের পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সালথার ঘটনায় আজ শনিবার পর্যন্ত মোট ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মিরান মোল্লা (৩৫) নামের একজন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ছাড়া দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাঁদের পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মো. জামাল পাশা, ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

জামাল পাশা বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে এ পর্যন্ত আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে ৫৮ জনকে। এর মধ্যে ৪৮ জনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। ১১ জনের দুই দিন করে রিমান্ড শুনানি শেষ করে আজ নতুন করে আরও ১০ দিন করে রিমান্ড চেয়ে জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি ৩৭ জনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। তাঁদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ছাড়া গতকাল শুক্রবার ও আজ শনিবার সালথার বিভিন্ন জায়গা থেকে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ১০ জনকে। এদের ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আজ জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন