বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওই সংঘর্ষের ঘটনায় বুধবার পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। ওই মামলায় ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ এজাহারভুক্ত ৩ জনসহ মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সালথার বালিয়া গট্টি গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওয়াদুদ মাতুব্বরের পক্ষ এবং খন্দকার রেজাউর রহমানের পক্ষের লোকজন শক্তি প্রদর্শনের জন্য দেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ হওয়ার নির্দেশ দেয়। বিবাদমান পক্ষদ্বয় ছত্রভঙ্গ না হয়ে পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে। জনতার ইটের আঘাতে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিকুর রহমানসহ সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় পুলিশ নিজেদের রক্ষার্থে তিনটি কাঁদানে গ্যাসের সেল এবং সাতটি শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বুধবার সকাল আটটার দিকে একই স্থানে আবারও ওই দুই পক্ষ দেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বিবাদমান পক্ষদ্বয় আশপাশের ভাবুকদিয়া, বালিয়া, মধ্যবালিয়া, আড়ুয়াকান্দি গ্রাম থেকে লোকজন জড়ো করে সংঘর্ষের উদ্যোগ নেয়। পরে পুলিশ ১৪টি কাঁদানে গ্যাসের সেল এবং ৩০টি শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সংঘর্ষ চলার সময় উপজেলা চেয়ারম্যান পক্ষের লোকজন বিরোধী পক্ষের পিকুল মোল্লার টিনের বসতঘর কুপিয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় বৈদ্যুতিক মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের মাধ্যমে ঘরে আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে।

প্রসঙ্গত গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোর ছয়-এর পাতায় ‘ফরিদপুরের সালথা, দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ ২৯ জন আহত’ শিরোনামে এ–সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশিত হয়।

এ ঘটনায় সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল বাসেদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।

ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সালথা থানার এসআই মোনতাসির মারুফ বলেন, এ মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামি মো. আবদুস সালাম (৫৫), পিকুল মাতুব্বর (৩৬), নুরুল ইসলামসহ (৩৫) মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ১৬ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

পুলিশের দাবির প্রতিবাদ
সংবাদ সম্মেলনে সংঘর্ষের নেপথ্যে ওয়াদুদ মাতুব্বর এবং খন্দকার রেজাউর রহমানের মদদ রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে যে দাবি করা হয়েছে, তার প্রতিবাদ করেছেন ওই দুই নেতা।

ওয়াদুদ মাতুব্বর বলেন, ‘পুলিশ আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। আমার জানা মতে, এ ঘটনার পেছনে খন্দকার রেজাউরেরও কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’

খন্দকার রেজাউর রহমান বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় আমার সংশ্লিষ্টতা খোঁজা হবে আমার প্রতি অন্যায় আচরণ করা।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন