default-image

সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাটে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণাসংক্রান্ত গেজেট উচ্চ আদালত বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই গেজেট অনুসারে উপজেলা দুটিতে সংরক্ষিত বনভূমির পরিমাণ ৬ হাজার ৪৯৯ একর। ১৯৮৫ সালের ২০ আগস্ট ওই গেজেট প্রকাশ করা হয়।

ওই গেজেটের বৈধতা নিয়ে ও ভূমি পেতে মোহাজের (উদ্বাস্তু) দাবি করে করা পৃথক দুটি রিট (রুল ডিসচার্জ) খারিজ করে আজ সোমবার রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন প্রথম আলোকে জানান, পৃথক গেজেটের মাধ্যমে ১৯৮৫ সালের ২০ আগস্ট সিলেট অঞ্চলের প্রায় ২৫ হাজার একর ভূমি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণা করে সরকার। এ–সংক্রান্ত একটি গেজেটের (৩৭৯) বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পৃথক রিট হয়। এই গেজেট অনুসারে জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চল ৬ হাজার ৪৯৯ একর। এই জায়গার বেশির ভাগ বন বিভাগের দখলে আছে। বাকি অংশ রিট আবেদনকারীসহ অন্যদের দখলে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ওই গেজেটের (৩৭৯) বৈধতা নিয়ে ২০১২ সালে জৈন্তাপুরের আবদুল মোত্তালিবসহ কয়েকজন এবং ২০১৪ সালে গোয়াইনঘাটের রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন নিজেদের উদ্বাস্তু দাবি করে পৃথক রিট করেন। আসাম ও ত্রিপুরা থেকে আসা উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের জন্য ১৯৫১ সালে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ওই ভূমি অধিগ্রহণ করে বলে দাবি রিটকারীদের। প্রথম রিটে ২৬৬ একর এবং দ্বিতীয় রিটে তিন হাজার ৪৭২ একর ভূমি দাবি করা হয়। প্রথম রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল দেন।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে পরবর্তী কার্যক্রম অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ রায় দেওয়া হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী চৌধুরী সানাওয়ার আলী ও আবুল কালাম আজাদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অবন্তী নূরুল।

অবন্তী নূরুল প্রথম আলোকে বলেন, রিট আবেদনকারীদের উদ্বাস্তু দাবি আদালতে প্রমাণিত হয়নি। হাইকোর্ট রিট খারিজ করে রায় দিয়েছেন। সব ধরনের কার্যক্রমে ইতিপূর্বে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে সিলেট অঞ্চলের ওই দুই উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণাসংক্রান্ত গেজেট বৈধ ঘোষিত হয়েছে। বন বিভাগের বনাঞ্চলে থাকা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে এখন আইনগত কোনো বাধা নেই।

অবশ্য রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, বন বিভাগ ওই জমি তাদের দাবি করে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে উদ্বাস্তুদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করে। এই প্রেক্ষাপটে তারা পৃথক রিট করে। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পেয়ে পর্যালোচনা করে মক্কেলদের সঙ্গে আলোচনা করে আপিল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0