বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কিশোর কুমার দে জানান, বৃহস্পতিবার ‘কথিত শ্রমিকনেতা’ সুলতান মাহামুদ তাঁর লোকজন নিয়ে রূপাতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় শ্রমিক ও বাস সমিতির মালিক নেতাদের ওপর হামলা চালান। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। এরপর ঈদে ঘরমুখী মানুষের কথা বিবেচনা করে চার ঘণ্টা পর বাস চলাচল শুরু হয়। তবে ওই ঘটনায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন বাসমালিক সমিতির নেতারা। শুক্রবার সকাল আটটার মধ্যে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। মালিক ও শ্রমিকদের দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষ হলেও কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে রূপাতলী টার্মিনাল থেকে ১৭ রুটে পুনরায় বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ থেকেও আন্তজেলার ১৪টি ও দূরপাল্লার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

শ্রমিকনেতা আহমেদ শাহরিয়ার বাবু বলেন, স্বল্প সময়ে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন, তা না করলে আবারও কঠোর আন্দোলনে যাবেন শ্রমিকেরা।

এদিকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে রূপাতলী বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শাহরিয়ার বাবু বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন, শ্রমিকনেতাদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবেন। তবে আন্দোলন কর্মসূচি শেষ হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। স্বল্প সময়ে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন, তা না করলে আবারও কঠোর আন্দোলনে যাবেন শ্রমিকেরা।

দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে রূপাতলী বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক শ্রমিক সংগঠন মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ। তবে প্রায় দুই মাস আগে মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাসকে সভাপতি ও টেম্পো মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আহমেদ শাহরিয়ার বাবুকে সাধারণ সম্পাদক করে পৃথক একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওই দুটি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

এক পক্ষের নেতা সুলতান মাহমুদ বলেন, পরিমল চন্দ্র দাস ও আহমেদ শাহরিয়ার বাবুর নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে সাধারণ শ্রমিকেরা মেনে নেননি। তাঁরা জোর করে টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার পরিমল-বাবুর লোকজন টার্মিনালে অবস্থান নিয়ে তাঁর (সুলতান) শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধা দেন। এ সময় সদ্য গঠিত ওই কমিটির বাবুল, হান্নান মৃধা, শওকত খানসহ কয়েকজন মিলে হামলা করে পাঁচ শ্রমিককে আহত করেন।

তবে মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদ্য গঠিত কমিটির সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল শেষে দীর্ঘদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে বাস চলাচল শুরু হয়। শ্রমিকেরা সকালে যাত্রী তোলার কাজ করছিলেন। আকস্মিকভাবে সুলতান মাহমুদের লোকজন হামলা চালান। এতে বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসির মৃধাসহ পাঁচজন আহত হন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন